গত কয়েক মাসে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মঞ্চে ভারত-আমেরিকার সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা বেড়েছে। দু’দেশের মধ্যে অর্থনীতি ও কূটনীতি সংক্রান্ত সম্পর্ক যে শক্তিশালী, তা দীর্ঘদিন ধরে পরিলক্ষিত হলেও, সম্প্রতি কিছু ঘটনা এই দৃঢ়তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এমন সময়, বিশ্বের নজর এখন দুই নেতার ফোনালাপ এবং শুল্ক বৃদ্ধির দিকে নজর দিয়েছে।
জার্মান সংবাদপত্র Frankfurter Allgemeine Zeitung (FAZ) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্তত চারবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-কে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু, মোদি ফোনটি রিসিভ করেননি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি মোদির “চরম রাগ এবং সতর্কতার” প্রতিফলন হতে পারে। FAZ-র এই তথ্য বার্লিনের গ্লোবাল পাবলিক পলিসি ইনস্টিটিউটের সহ প্রতিষ্ঠাতা থর্স্টেন বেনার এক্স-এ শেয়ার করেছেন।
এরই মধ্যে, ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। FAZ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোদি এর ফলে ক্ষুব্ধ হয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দেয়। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে গত ২৫ বছরের ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের দৃঢ়তায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তাছাড়া, ভারতের রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার কারণেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মোদির প্রতিক্রিয়াও কম প্রভাবশালী ছিল না। ট্রাম্পের ৩১ জুলাইয়ের মন্তব্যের উত্তরে ১০ আগস্ট মোদি বলেছেন, “ভারত বিশ্বের সেরা তিন অর্থনীতি হওয়ার পথে এগোচ্ছে।” এর মধ্যে ট্রাম্প বারবার ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের মধ্য দিয়ে যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব দাবি করেছেন। যদিও পাকিস্তান তাঁর দাবিতে সিলমোহর দিয়েছে, ভারত সবসময় তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ অস্বীকার করেছে।
আরও পড়ুনঃ Weather: শুক্রবার থেকে নিম্নচাপের জেরে ফের ঝড়বৃষ্টি, ভিজবে গোটা বাংলা, বাদ যাবে না কলকাতাও
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি শুধু অর্থনৈতিক নয়, কূটনৈতিকভাবে ভারত-আমেরিকার সম্পর্কের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সমঝোতার পথ কী হবে, তা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক নজর কেড়েছে। মোদি এবং ট্রাম্পের এই টানাপোড়েন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।





