বাংলার বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অবাক করা পরিস্থিতি নতুন কিছু নয়। কখনও রোগীকে কাঁধে করে হাসপাতালে নেওয়া দেখা যায়, কখনও বা সাহায্যের অভাবে মানুষ নিজে সমস্যার মোকাবিলা করতে হয়। কিন্তু সম্প্রতি ঘটেছে এমন এক ঘটনা, যা স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা এবং ক্ষোভ তৈরি করেছে। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা–চান্ডিল শাখার বরাভূম রেলস্টেশনে সোমবার সকালে এক দম্পতির সঙ্গে ঘটে গেল মর্মান্তিক পরিস্থিতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত দম্পতি বোতল সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে জীবনযাপন করতেন। ঝাড়খণ্ডের কাঁন্দ্রা স্টেশন থেকে গোমো ট্রেনে ফিরছিলেন তারা। পথে হঠাৎই স্ত্রী শান্তা কর্মকার অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সংজ্ঞাহীন অবস্থায় বরাভূম স্টেশনে নামানো হয়। চিকিৎসা বা সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই শান্তা কর্মকারের মৃত্যু ঘটে।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, মৃত্যুর পরও রেল স্টেশন কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ নেননি। স্ত্রীর মৃতদেহ স্টেশনে পড়ে থাকতে থাকলেও কোনও হাসপাতালের ব্যবস্থা বা জরুরি সাহায্য মেলেনি। বরাবরই যেখানে সাহায্য পাওয়া যায়, সেখানে এবার সেখানে দেখা গেল স্বামী মনোজ কর্মকারকে স্ত্রীর মৃতদেহের পাশে বসে থাকতে। ঘটনার ফলে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ এবং রেল কর্তৃপক্ষের প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন।
মনোজ কর্মকার জানিয়েছেন, “আমার স্ত্রী আচমকা অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছে। রেলের কেউই এল না। আমাকে দেহ সরাতে বাধ্য করা হয়েছে।” এই মর্মান্তিক পরিস্থিতি প্রকাশ্যে আসার পরও স্টেশন ম্যানেজার কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। ঘটনায় দায়িত্ব এড়াতে গেলে স্থানীয়দের মধ্যে আরও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ India-US Relations: ‘ট্রাম্প মোদিকে চারবার ফোন করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু মোদি কথা বলেননি’ – কি বলছে জার্মান পত্রিকা? ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক কি নতুন মোড় নিতে চলেছে?
পুরুলিয়া জিআরপি সূত্রে জানানো হয়েছে, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পুরুলিয়ায় পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার রিপোর্ট এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। বোতল কুড়োন এবং বিক্রি করেই সংসার চালানো দম্পতির জন্য এই ঘটনা অত্যন্ত করুণ। স্থানীয়রা আশা করছেন, ভবিষ্যতে রেল কর্তৃপক্ষ এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার দিকেও নজর দেবে।





