বর্ষশেষের ছুটি বাতিল, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ওমিক্রন, মন্ত্রিসভায় জরুরি বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

বছরের শেষেও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে করোনা সংক্রমণ। এর উপর ওমিক্রন আতঙ্কও ছড়িয়েছে দেশজুড়ে। ইতিমধ্যেই করোনার এই নতুন ভ্যারিয়েন্টে দেশে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৮১ জন। এই পরিস্থিতিতে এবার মন্ত্রিসভায় জরুরি বৈঠকের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সূত্রের খবর অনুযায়ী, আজ বিকেল ৪টের সময় মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের করোনা ও ওমিক্রন পরিস্থিতি নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্রের খবর, আজকের এই বৈঠকে সকল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন যে বর্ষশেষে কোনও মন্ত্রীরা যেন কোথাও না যান। সকলকে আলাদা আলাদা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আজকের এই বৈঠকে উত্তরপ্রদেশ ও পঞ্জাবের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করা হবে, সকল মন্ত্রীদের মতামত নেওয়া হবে এই নিয়ে। কেন্দ্রীয় ম্নত্রিরা ছাড়াও স্বাস্থ্যমন্ত্রকের নানান আধিকারিক আজকের এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন বলে সূত্রের খবর।

গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবারে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে যাবতীয় তথ্য জানতে চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর পাশাপাশি স্বাস্থ্য আধিকারিকদের ওমিক্রন সংক্রমণ নিয়ে সতর্ক ও কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। বিগত এক সপ্তাহের মধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা যেভাবে দুই থেকে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, তা নিয়ে এ দিনের বৈঠকে প্রশ্ন করবেন প্রধানমন্ত্রী, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।

সংক্রমণ মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্যগুলি ঠিক কতটা প্রস্তুত, হাসপাতালের পরিকাঠামো, চিকিৎসা সামগ্রী ও অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে কী না, সে সম্পর্কেও জানতে চাইতে পারেন প্রধানমন্ত্রী, এমনটাই সূত্রের খবর। সংক্রমণ প্রতিরোধে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন, তা নিয়েও মন্ত্রী ও শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব-সহ দেশের ৫ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। করোনা পরিস্থিতির মাঝে প্রচার কীভাবে করা যায় ও নির্বিঘ্নে কীভাবে নির্বাচন করা যায়, তা নিয়েও আজকের এই বৈঠকে আলোচনা করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা ৭৮১। দেশে সর্বাধিক ওমিক্রন আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে দিল্লি থেকে, সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ২৩৮। এরপরই রয়েছে মহারাষ্ট্র (১৬৭), গুজরাট (৭৩), কেরল (৬৫), তেলঙ্গনা (৬২), রাজস্থান (৪৬)। কর্নাটক (৩৪), তামিলনাড়ু (৩৪), হরিয়ানা(১২)-তেও ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

RELATED Articles