গত দশ বছর ধরে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে রয়েছেন। বারবার তিনি বলেছেন ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর কথা। তবে এই দশ বছরে তিনিও ভুল, ত্রুটি করেছেন। কিন্তু তা সমালোচনা করার মতো প্রকৃত সমালোচক কই? ওপেন ম্যাগাজিনকে দেওকা একটি সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানালেন নরেন্দ্র মোদী।
প্রধানমন্ত্রী জানান যে তিনি রাজনীতিতে কোনওদিনই যোগ দিতে চান নি। রাজনীতির সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগও ছিল না। কিন্তু তিনিই আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী। মোদী জানান, “আমার পারিপার্শ্বিক, আমার অভ্যন্তরীণ জগৎ, আমার দর্শন — এগুলি খুব আলাদা ছিল। ছোট থেকেই আমার মধ্যে জেঁকে বসেছিল আধ্যাত্মিকতা”। তিনি জানান যে তাঁর আদর্শ হলেন রামকৃষ্ণ পরম হংসদেব এবং স্বামী বিবেকানন্দ। কিন্তু সেখান থেকে তিনি রাজনীতিতে এলেন কীভাবে?
জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “রাজনীতির আশেপাশে তো কোনছাড়া কোনও দূরবর্তী সংযোগও ছিল না। অনেক পরে পরিস্থিতির কারণে এবং কিছু বন্ধুর জেদের কারণে, আমি রাজনীতিতে যোগ দিয়েছি। এমনকী সেখানে, আমি এমন একটি অবস্থানে ছিলাম যখন আমি কেবল প্রাথমিকভাবে সাংগঠনিক কাজ করতাম”।
মোদীর কথায় এরপর পাকচক্রেই তিনি রাজনীতিতে পা বাড়ান। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “কুড়ি বছর আগে পরিস্থিতি এমন হয়ে উঠেছিল যে আমাকে একটি প্রশাসনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ অজানা জায়গায় ঢুকতে হয়েছিল। সেটা ২০০১ সাল। যখন গুজরাট আমাদের দেখা সবচেয়ে বিধ্বংসী ভূমিকম্পে ভয়ঙ্কর ভাবে প্রভাবিত হয়েছিল”। এরপরই তিনি যোগ দেন রাজনীতিতে। সেখান থেকেই তাঁর গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া, তারপর দেশের প্রধানমন্ত্রী। এরপরের ঘটনা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
মোদী এও বলেন যে প্রধানমন্ত্রী হওয়াটা কোনও বড় বিষয় নয়। তাঁর কথায়, “অনেকের দৃষ্টিতে, প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী হওয়া খুব বড় জিনিস হতে পারে। কিন্তু, আমার নিজের চোখে, এগুলি জনগণের জন্য কিছু করার উপায় ছাড়া আর কিছু নয়”।
তাহলে কোনও কাজে মোদী কি কোনও ভুল করেন না? বিরোধীরা বরাবরই অভিযোগ করেন যে প্রধানমন্ত্রী সমালোচনা ও সমালোচকদের নিতে পারেন না। এই বিষয়ে মোদী নিজে কী বলছেন?
এই সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী কার্যত মেনে নেন যে তিনিও ভুলকরেন, দোষ ত্রুটি তাঁরও আছে। বলেন, “কেউ যদি শুধু আমার কাজ বিশ্লেষণ করত, তাহলে সে আমার সম্পর্কে কোনও বিভ্রান্তির মধ্যে থাকত না। আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর, প্রায় ২০ বছর আগে, যখন আমার প্রশাসনের কোনও পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না, তখন আমি প্রথম কাজ করেছিলাম… আমি সবার আগে কচ্ছ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে গিয়েছিলাম। আমি প্রকাশ্যে বলেছিলাম যে, ভূমিকম্পের পরে এটা প্রথম দিওয়ালি, তাই আমরা উদযাপন করব না। আমি নিজে দিওয়ালির দিন ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের সঙ্গে সেখানে ছিলাম। এবং তাঁদের দুর্ভোগ ভাগ করে নিয়েছিলাম”।
এরপরই তাঁর সংযুক্তি, “এর অর্থ এই নয় যে মোদীর কোনও দোষ নেই বা এমন কোনও মানে নেই, যার উপর মোদীর সমালোচনা করা যেতে পারে না”।
এখানেই শেষ নয়। এই সাক্ষাৎকারে মোদী আরও বলেন, “নিজেদের বিকাশের জন্য আমি সমালোচনাকে ভীষণ গুরুত্ব দিই। আমি সৎ মনের সমালোচকদের ভীষণ শ্রদ্ধা করি। কিন্তু, দুর্ভাগ্যবশত, এমন সমালোচকদের সংখ্যা খুবই কম। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, মানুষ কেবল অভিযোগ করে বিভ্রান্তি তৈরির জন্য। আর এর কারণ হল, সমালোচনার জন্য একজনকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়, গবেষণা করতে হয়। আর আজকের দ্রুত গতির বিশ্বে হয়তো মানুষের কাছে সেই সময়টাই নেই। তাই কখনও কখনও, আমি সমালোচকদের ‘মিস’ করি”।





