শাহীনবাগ (Saheen Bagh) ইস্যুতে নিজেদের মতামত জানালো সুপ্রিম কোর্ট। নির্দিষ্ট স্থানেই প্রতিবাদ প্রদর্শনের অনুমতি দেওয়া উচিত। অনির্দিষ্টকাল ধরে সরকারি জায়গা বা পাবলিক প্লেস আটকে রেখে প্রতিবাদ দেখানো যাবে না জানালো দেশের সর্বোচ্চ আদালত। শাহীনবাগ নিয়ে পিটিশন মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আজ সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে জানিয়েছে সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ হচ্ছ, রাস্তা অবরোধ করা হলে তা মুক্ত করার দায়িত্ব কিন্তু প্রশাসনেরই। কিন্তু, দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে এই ঘটনায় আদালতের হস্তক্ষেপের আগে প্রশানের তরফে কোনও পদক্ষেপই করা হয়নি।
সুপ্রিম কোর্টের (Supreme court) বিচারপতি এসকে কৌলের(S.K. Kaul) নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ আজ শাহীনবাগ অবরোধ ইস্যুতে জানিয়েছেন, ‘পাবলিক প্লেস অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখা যাবে না। মতপার্থক্য ও গণতন্ত্র হাত ধরাধরি করেই সমাজে চলবে, কিন্তু প্রতিবাদ-বিক্ষোভ নির্দিষ্ট জায়গাতেই করা উচিত। পাবলিক প্লেস অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রেখে বিক্ষোভ প্রদর্শন গ্রহণযোগ্য নয়।’
গত ফেব্রুয়ারি মাসে আইনজীবী অমিত সাহনি শাহীনবাগের রাস্তা অবরোধ তোলার দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করেছিলেন। সেই পিটিশনের শুনানির প্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, অনির্দিষ্টকাল ধরে পাবলিক প্লেস আটকে রেখে প্রতিবাদ দেখানো যাবে না।গত ২১শে সেপ্টেম্বর বেঞ্চ শাহিনবাগের রাস্তা অবরোধ সংক্রান্ত রায় সংরক্ষণ করে। যদিও পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল বিক্ষোভ ও মানুষের আধিকারের মধ্যে সামঞ্জস্য হওয়া প্রয়োজন। মানুষের অবরুদ্ধ রাস্তা ব্যবহারের সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে বলেছিলেন, প্রতিবাদ দেখানোর অধিকার মৌলিক অধিকার, কিন্তু তা নিয়ন্ত্রিত।
চলতি বছরের ২৩শে মার্চ করোনাভাইরাস ধীরে ধীরে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করলে দিল্লি পুলিশ শাহীনবাগ থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। ১০০ দিনের বেশি সময় ধরে দিল্লির সঙ্গে নয়ডার সংযোগকারী রাস্তা আটকে প্রায় ৩০০ মহিলাকে সামনে রেখে সিএএ প্রতিবাদীরা শাহীনবাগে বিক্ষোভ দেখান। উক্ত জায়গা থেকে আন্দোলন সরানোর জন্য দুই প্রবীণ আইনজীবী সঞ্জয় হেগড়ে, সাধনা রামাচন্দ্রন এবং প্রাক্তন চিফ ইনফরমেশন কমিশনার ওয়াজাহাত হাবিবুল্লাহকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট।
প্রসঙ্গত উল্লেখ যোগ্য গত বছর ডিসেম্বরে সংসদে পাস হয় সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ। এরপরই দেশজুড়ে সিএএ বিরোধী আন্দোলন বিক্ষোভ জোরালো হয়। সেই আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠে দিল্লির শাহীনবাগ। ১৫ ডিসেম্বর থেকে প্রায় তিন মাসের বেশি সময় ধরে শাহীনবাগে অবস্থান করেন সিএএ বিরোধী আন্দোলনকারীরা। আম আদমির যাতায়াতের জায়গা আটকে দীর্ঘ দিন ব্যাপী এই বিক্ষোভ চললে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েন দিল্লির সাধারণ মানুষ।





