অবশেষে অপেক্ষার অবসান! দীর্ঘ ৮ মাস বন্ধ থাকার পর আগামী মাসেই দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে পুরীর জগন্নাথদেবের মন্দিরের দরজা। শ্রী জগন্নাথ মন্দির প্রশাসনের তরফ থেকে এমনটাই জানানো হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর মাসে করোনার সমস্ত সুরক্ষাবিধি মেনে ভক্তদের জন্য পুরীর মন্দির খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।
কিছুদিন আগেই ওড়িশার বিধানসভায় জগন্নাথদেবের মন্দির খুলে দেওয়ার আবেদন জানান বিজেপি ও কংগ্রেস বিধায়কেরা। এদিন বিজেপি প্রধান মোহন মাঝি বক্তব্য ছিল, করোনা দেশের সর্বত্র। মহারাষ্ট্রে এর প্রভাব অনেকটাই বেশী। কিন্তু তবুও এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করে মহারাষ্ট্র সরকার সেখানকার সব মন্দির ও প্রার্থনার স্থান খুলে দিয়েছেন। মোহনবাবু বলেন, তাহলে পুরীর জগন্নাথ মন্দির খোলার ব্যাপারে ওড়িশা সরকার এতো উদাসীন কেন? এদিন বিধানসভায় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে চিফ-হুইপ তারাপ্রসাদ বাহিনীপতি বলেন, “হাত জোড় করে সরকারকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আরজি জানাচ্ছি। এতদিন ধরে মন্দির বন্ধ থাকার হাজার হাজার সেবায়েতদের জীবনে প্রভাব পড়ছে”।
তবে ওড়িশা সরকার মন্দির খোলার অনুমতি দিলেও নানা রকম সুরক্ষাবিধি যে কড়াভাবে পালন করতে হবে, এও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওড়িশা সরকারের পক্ষ থেকে। ইতিমধ্যেই স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর নির্ধারণের কাজ শুরু করে দিয়েছে। এরপর আরও কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই যাতে সকল দর্শনার্থী জগন্নাথদেবের দর্শন করতে পারেন, সেদিকেও যথেষ্ট লক্ষ্য রাখা হবে। তাছাড়া, কোনও নিয়মের উলঙ্ঘন ঘটলে যে তৎক্ষণাৎ কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এও ওড়িশা সরকারের পক্ষ থেকে কড়া ভাষায় জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মার্চ মাস থেকেই জনসাধারণের জন্য পুরীর মন্দিরের দরজা বন্ধ। কিছু সেবায়ত যারা নিত্য জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার সেবা করেন, তাঁরা ছাড়া, অন্য সকলের এই মন্দিরের চত্বরে প্রবেশ নিষেধ। এই বছরের রথজাত্রার চিত্রও ছিল একেবারে অন্যরকম। অনেক চেষ্টার পরে হাইকোর্ট পুরীতে রথযাত্রার অনুমতি দিলেও জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রার রথ এই বছর টেনেছিলেন শুধুমাত্র মন্দিরের সেবায়তরা। সাধারণ মানুষ এই বছর ঘরে বসে টিভিতেই জগন্নাথদেবের রথযাত্রা দেখে চক্ষু সার্থক করেন। কিন্তু এবার জগন্নাথদেবের মন্দির খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে বেশ খুশি হবেন হাজার হাজার দর্শনার্থী।





