২২ জানুয়ারি উদ্বোধন হয় অযোধ্যার রাম মন্দিরের (Ayodhya Ram mandir)। তারপরের দিন থেকেই অর্থাৎ ২৩ জানুয়ারি থেকে সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয় মন্দিরের দরজা। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭৫ লক্ষ ভক্ত রামলালার দর্শন করতে এসেছেন। সপ্তাহান্তের দিনগুলিতে দুই লক্ষের বেশি ভক্তের ভিড় হয় বলে জানিয়েছেন রাম মন্দির ট্রাস্টের এক কর্তা। সকাল ছটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত রামলালা দর্শন করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে ভক্তদের। প্রতিদিন বিকেলে এক ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকে রাম মন্দির(Ram mandir)। অযোধ্যায় গিয়ে রামলালার দর্শন সম্ভব না হলে এখন বাড়িতে বসেই টেলিভিশনের পর্দাতেই অযোধ্যা থেকে সরাসরি রামলালার আরতি দেখতে সুযোগ পাওয়া যাবে। এ ঘোষণা আগেই করা হয়েছে।
অযোধ্যার রাম মন্দিরে রাম লালার মূর্তি, ভগবান রামকে পাঁচ বছর বয়সী শিশু হিসাবে চিত্রিত করেছে , যা তার ঐশ্বরিক মর্যাদাকে প্রতিফলিত করে এমন অসাধারন গহনা দিয়ে সজ্জিত। দেবতার জন্য গয়না কমপক্ষে ১৫ কেজি সোনা এবং ১৮,০০০ হীরা এবং পান্না ব্যবহার করা হয়েছে। কারিগররা তাদের অনুপ্রেরণা হিসাবে অধ্যাত্ম রামায়ণ, বাল্মীকি রামায়ণ, শ্রী রামচরিতমানস এবং আলাভান্ডার স্তোত্রের মতো পবিত্র গ্রন্থগুলি ব্যবহার করে প্রতিটি টুকরো যত্ন সহকারে তৈরি করেছেন। যা এই শ্রদ্ধেয় গ্রন্থগুলিতে বর্ণিত ভগবান রামের শাস্ত্র-ভিত্তিক সৌন্দর্যকে তুলে এনেছে।
রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা পর এবার সূর্য অভিষেকের পালা। সূর্যের রশ্মি সোজা প্রবেশ করবে রাম মন্দিরের গর্ভগৃহে, স্পর্শ করবে রামলালার কপাল। সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আসন্ন রামনবমীতে। রামনবমীতে সূর্য অভিষেক সেরে ফেলতে চাইছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। এই প্রক্রিয়াটির জন্য দরকার সঠিক গবেষণার। গবেষণা চলছে অনেকদিন ধরেই। রুর্কি থেকে অযোধ্যায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বিশেষজ্ঞদের। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে হচ্ছে বৈঠক, কাজ চলছে জোরকদমে।
আগামী ৯ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে রামনবমীর অনুষ্ঠান। চলবে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত। তারই মধ্যেই হবে এই অনুষ্ঠান। রুর্কির সেন্ট্রাল বিল্ডিং রিসার্চ ইন্সটিটিউট বা সিবিআরআই-এর তরফ থেকে বিশেষজ্ঞরা পৌঁছে গিয়েছেন অযোধ্যায়। গত ৯ মার্চ এই বিষয়ে বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সিবিআরআই-এর ডিরেক্টর প্রদীর কুমার রামচন্দ্র ও অধ্যাপক দেবদূত ঘোষ। কীভাবে প্রস্তুতি চলছে, সে ব্যাপারে আলোচনা হয় বৈঠকে।
পরিকল্পনা হল, রামনবমীর দিন দুপুর ঠিক ১২ টায় গর্ভগৃহে প্রবেশ করবে সূর্যের আলো। জানা গিয়েছে, উচ্চমানের আয়না লাগানো হচ্ছে মন্দিরে। দুটি আয়না লাগানো হচ্ছে প্রথম তলায়, আরও দুটি লাগানো হবে দ্বিতীয় তলায়। ২০২২ সালে দীপোৎসব উপলক্ষে অযোধ্যায় গিয়ে এই ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি ট্রাস্টকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, “যাতে এমনভাবে মন্দির তৈরি করা হয় যে কোনারকের সূর্য মন্দিরের মতো রামলালার গর্ভগৃহেও সরাসরি প্রবেশ করতে পারে সূর্যের রশ্মি।”





