পর্যটনে ভরা পহেলগাঁওয়ের শান্ত উপত্যকা হঠাৎই রক্তাক্ত হয়ে উঠেছিল এপ্রিল মাসের শেষদিকে। বৈসরন উপত্যকায় প্রাণ হারান বহু নিরীহ মানুষ। হামলার ঘটনার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। এই বিভীষিকার রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয় জঙ্গিদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান। গোটা দেশ চাইছিল কড়া জবাব, আর সেই প্রতিশোধের নেপথ্যেই ভারত চালায় ‘অপারেশন মহাদেব’।
মঙ্গলবার লোকসভায় দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, পহেলগাঁওয়ে হামলার মূল চক্রী তিন জঙ্গিকে নিকেশ করা হয়েছে। সেনা, সিআরপিএফ এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের যৌথ অভিযানে বৈসরন উপত্যকায় এই জঙ্গিদের খতম করা হয়। অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন মহাদেব’। শাহ আরও জানান, নিহত তিন জঙ্গির নাম সুলেমান, আফগান ও জিবরান। তারা প্রত্যেকেই পহেলগাঁও হামলায় জড়িত ছিল।
অভিযানে নিহত লস্কর-এ-তৈবার অন্যতম সদস্য সুলেমান, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর এলিট ইউনিট স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপের প্রাক্তন কমান্ডো বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সে ভারতে অনুপ্রবেশ করে দক্ষিণ কাশ্মীরে সক্রিয় হয়। ভারতীয় সেনার সফল অভিযানে তার খতম হওয়াকে পাকিস্তান ‘ফেক এনকাউন্টার’ বলে দাবি করছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, নিরীহ নাগরিকদের মিথ্যা অভিযোগে আটক করে জঙ্গি বলা হচ্ছে। পাক সংবাদপত্র ডন-এও সেই দাবি ঘুরে ফিরে এসেছে।
অপারেশন মহাদেবের আগেও ভারত চালিয়েছিল আর একটি জোরালো অভিযান — অপারেশন সিঁদুর। ৭ মে রাতভর চলে এই অপারেশন। পাক অধিকৃত কাশ্মীর এবং পাকিস্তানের ৯টি স্থানে জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় বাহিনী। এই প্রতিশোধমূলক হামলার পরে সীমান্ত বরাবর ভারতের শহরগুলিতে হামলার চেষ্টা করে পাকিস্তান। তবে সেই চক্রান্তকেও বানচাল করে দেয় ভারত।
আরও পড়ুনঃ Suvendu Adhikari : ‘মিনি ভারত’-এর প্রতিটি জাত-ভাষা নিয়ে গোপন সমীক্ষা! মমতাকে চাপে ফেলতে ভবানীপুরে কৌশলী চাল শুভেন্দুর!
এই ঘটনার পর জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানান, পাকিস্তানের সমস্ত পদক্ষেপের উপর নজর রাখা হবে। নিউক্লিয়ার ব্ল্যাকমেলের মুখে ভারত আর নত হবে না। তিনি স্পষ্ট বলেন, আলোচনার টেবিলে বসতে চাইলে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদ এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়েই কথা বলতে হবে। আপাতত ‘অপারেশন মহাদেব’-এর সাফল্যে একদিকে যেমন দেশজুড়ে স্বস্তি, তেমনই প্রতিবেশী দেশে ক্রমশ বাড়ছে চাপের পারদ।





