পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় শব্দ হল ‘বাবা’। আর সেই ‘বাবা’র খোঁজেই যদি আসে কোনও ফোন? তখন তো মন কেঁপেই ওঠে! এক ভারতীয় পড়ুয়ার ফোনে এমনই এক আবেগঘন কণ্ঠস্বর—”আমার বাচ্চারা বাবার সঙ্গে কথা বলতে পারছে না, দয়া করে একটু সাহায্য করুন!” প্রথম শুনতে আবেগে ভরা হলেও বাস্তবটা ছিল একেবারেই আলাদা। আজকের দিনে যখন তথ্যের দাম সোনার থেকেও বেশি, তখন একটা ফোনকলও হয়ে উঠতে পারে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অস্ত্র।
সাধারণ মানুষ ভাবতেই পারেন না, কবে কোন ছলনার ছায়া এসে পড়বে জীবনের উপরে। একজন নিরীহ পড়ুয়া, যার জীবনের মূল লক্ষ্য পড়াশোনা—সেই ছাত্রই আচমকা জড়িয়ে পড়ে এক আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে! একটি সরল অনুরোধ, একটি আবেগঘন কণ্ঠস্বর, আর তারপর ধীরে ধীরে প্রশ্নের ধরণ পাল্টে যায়—”সেনা ছাউনি কোন দিক দিয়ে বেরোচ্ছে?”, “রাস্তাঘাটে কোনও গাড়ি দেখা যাচ্ছে কি?”—এই প্রশ্নগুলো যেন ক্রমে এক গুপ্তচরচক্রের মুখোশ খুলে দেয়।
ভারতের এক পড়ুয়াকে ফোন করে এক পাক গুপ্তচর নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে বারবার জানতে চায়, সেনাবাহিনীর কোন ছাউনি থেকে তারা কোন পথে যাচ্ছে। রাস্তাঘাট, যানবাহন, সেনার উপস্থিতি—এই সমস্ত তথ্য জানার চেষ্টা চলে অত্যন্ত নিপুণভাবে। যদিও পড়ুয়ার তৎপরতা ও উপস্থিত বুদ্ধির জন্যই এই চক্রান্ত ভেস্তে যায়। তিনি তাৎক্ষণিক ভাবে সন্দেহ করে কোনও গোপন তথ্য না দিয়ে, সংলাপটিকে ঘোরানোর চেষ্টা করেন। এরপর বিষয়টি উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
এই ঘটনার পাশাপাশি, পহেলগাঁও হামলার পর ভারতীয় সেনা দক্ষিণ কাশ্মীরের একটি এলাকায় (নিরাপত্তার কারণে নাম গোপন রাখা হয়েছে) অভিযান চালাচ্ছে। সেনা সূত্রে খবর, চার জঙ্গিকে ঘিরে ফেলেছে বাহিনী। এই জঙ্গিরা পহেলগাঁও থেকে পালিয়ে অনন্তনাগের জঙ্গল ঘুরে ট্রালের দিক দিয়ে কুলগাম পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেনা এলাকায় ঘেরাও করে। গুলির লড়াই চলছে, পাল্টা গুলিবর্ষণ করছিল জঙ্গিরাও। তবে এখন তা কিছুটা স্তিমিত। অনুমান করা হচ্ছে, তারা হয়তো আবার অন্য কোথাও পালিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Pahalgam Attack: কাশ্মীর হামলার নতুন ভয়াবহ ভিডিও ভাইরাল, নৃশংসতা দেখে আতঙ্কিত দেশবাসী!
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, গোটা ষড়যন্ত্রটি ফোন কল রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে সামনে আসে। ভারতীয় সেনার গতিবিধি, সড়কপথে গমন ও অস্ত্রসজ্জা—এইসব অত্যন্ত স্পর্শকাতর তথ্য জানার উদ্দেশ্যে ফোন করা হয়। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে, ভারতীয় পড়ুয়ার উপস্থিত বুদ্ধি দেশের এক সম্ভাব্য বিপদ থেকে রক্ষা করে। এই অডিয়ো রেকর্ডিং বর্তমানে তদন্তকারীদের হাতে। এখন প্রশ্ন উঠছে—এই ধরনের আরও ফোন কি হচ্ছে? ভারতের সাধারণ নাগরিকদের আরও সতর্ক হতে হবে, কারণ আজকের দিনে যুদ্ধ শুধু সীমান্তে নয়, শুরু হয়েছে ফোনের পর্দার আড়ালেও।





