Muslim: ‘এদেশে থাকতে দিয়ে ভুল করেছি’— মুসলিম-বিরোধী গানে ঝড়! ঘৃণার আগুনে জ্বলছে নেটদুনিয়া!

সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় এমন কিছু গানের হদিশ মিলেছে, যেগুলির কথায় স্পষ্ট ঘৃণার সুর। কোনও ধর্ম বা জাতি যখন কোনও দেশের বাসিন্দাদের মধ্যে বিভাজন ঘটায়, তখন প্রশ্ন ওঠে— কোনটা দেশভক্তি আর কোনটা বিদ্বেষ? গান, কবিতা, সিনেমা— এই মাধ্যমগুলি যেখানে সমাজের কথা বলার জায়গা, সেখানে যদি তা ঘৃণার অস্ত্র হয়ে ওঠে, তবে কি চিন্তার অবকাশ নেই? পুলওয়ামার পর ফের জম্মু-কাশ্মীর রক্তাক্ত হওয়ার পর ঠিক এই পরিস্থিতিতেই মাথাচাড়া দিয়েছে এক বিতর্ক।

গান, যা একসময় মানুষের অনুভবের ভাষা ছিল, আজ তা কীভাবে বিদ্বেষ ছড়ানোর হাতিয়ার হয়ে উঠছে, তা দেখে অবাক নেটিজেনরাও। কথায়, সুরে এমন ঘৃণা যে, শিরোনামে উঠে এসেছে শব্দ— ‘বিশ্বাসঘাতক’, ‘ঘৃণায় ভরা হৃদয়’। প্রশ্ন উঠছে, এসব গান কি মানুষকে আরও ভাঙছে? না কি সমাজকে অন্ধ আবেগে বিপথে চালিত করছে? একাংশ বলছেন, এর ফলে দেশের সংহতি ভাঙতে পারে।

গত মঙ্গলবার জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন পর্যটক। এই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইউটিউবে মুক্তি পায় একটি গান, যেখানে সরাসরি ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়কে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে চিহ্নিত করা হয়। ‘পহেলে ধর্ম পুছা’ শিরোনামের এই গানে এমন বক্তব্য রয়েছে— “তোমাদের এদেশে থাকতে দিয়ে আমরা খুব ভুল করেছি”। মাত্র ক’দিনেই এই গানের ভিউ ছাড়িয়েছে ১ লক্ষ ৪০ হাজার। শুধু এই গানই নয়, এরপর একের পর এক ইসলামোফোবিক গানের ট্রেন্ড ঘুরে বেড়াতে শুরু করে সোশাল মিডিয়ায়।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অন্তত ২০টি গানের খোঁজ মিলেছে যেখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা উগরে দেওয়া হয়েছে। কিছু গানে সরাসরি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেওয়ার পাশাপাশি দেশটিকে মানচিত্র থেকে মুছে দেওয়ার দাবি উঠেছে। কোথাও আবার বলা হয়েছে, পাকিস্তানিদের রক্তে পহেলগাঁওয়ের প্রতিশোধ নিতে হবে। এই সব গান মূলত হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর তরফে তৈরি এবং শেয়ার করা হচ্ছে বলে দাবি রিপোর্টে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এমন গান এবং ভিডিও শুধু মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করছে না, বরং হিংসাত্মক মনোভাব উসকে দিচ্ছে। বিভিন্ন সোশাল মিডিয়া গ্রুপে এই গানগুলি আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে টেলিগ্রাম, ফেসবুক এবং ইউটিউব-এ নজরে আসছে এই প্রবণতা। প্রশ্ন উঠছে— এত ঘৃণার সামগ্রী কিভাবে সহজেই নজর এড়িয়ে নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়ছে? প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যা আরও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ Pakistani spy: একটি ফোনেই ফাঁস হতে বসেছিল ভারতের রণকৌশল! পাক চক্রান্তের অডিয়ো শুনে আঁতকে উঠছেন তদন্তকারীরা!

এই ধরণের গানের প্রচলন সমাজের সহনশীলতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে— গানের ভাষায় যদি এমন ঘৃণা বাসা বাঁধে, তাহলে কোথায় থাকবে আমাদের সাংস্কৃতিক বোধ ও সংবেদনশীলতা?

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles