স্কুলে ছেলে হোমওয়ার্ক করেনি—এই কারণেই কি মার খেতে হবে? এমনই প্রশ্ন তুলে স্কুলে চড়াও হলেন এক ছাত্রের বাবা-মা। তাঁদের রোষ এতটাই চরমে ওঠে যে স্কুলের শিক্ষককে প্রকাশ্যে লাঠিপেটা করলেন তাঁরা। শুধু শিক্ষকই নন, যাঁরা তাঁকে বাঁচাতে গিয়েছিলেন, তাঁরাও নিস্তার পেলেন না। এমনকি, একজন শিক্ষিকা বারবার কাকুতি-মিনতি করলেও রক্ষা করা যায়নি আক্রান্ত সহকর্মীকে। এই ঘটনায় আতঙ্কে কেঁপে ওঠে গোটা স্কুল চত্বর।
ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের গয়া জেলায়, একটি সরকারি স্কুলে। পঞ্চম শ্রেণির দুই ছাত্রের মধ্যে ঝগড়া চলছিল ক্লাসে। তখন অন্য এক পড়ুয়া অভিযোগ জানায় শিক্ষক রাকেশ রঞ্জন শ্রীবাস্তবের কাছে। তিনি ক্লাসে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে দু’জন ছাত্রকেই চড় মারেন। আপাতভাবে পরিস্থিতি তখন সামাল পেলেও পরক্ষণেই ঝড় আসে স্কুলে। কারণ ওই দুই ছাত্রের একজন এরপর স্কুল থেকে পালিয়ে যায় এবং বাড়ি গিয়ে অভিযোগ জানায়, শিক্ষক তাকে মেরেছেন।
এই অভিযোগ শুনেই ক্লাস চলাকালীন স্কুলে পৌঁছে যান সেই ছাত্রের অভিভাবকরা। তারা কোনও প্রশ্ন না করেই সোজা শিক্ষক শ্রীবাস্তবের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাঁকে কিল-ঘুষি মারেন এবং লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাতে শুরু করেন। ঘটনার আকস্মিকতায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন স্কুলকর্মীরা। কেউ বাধা দিতে গেলেও তাঁরাও রেহাই পাননি। একজন শিক্ষিকা বারবার অনুরোধ করেও সহকর্মীকে রক্ষা করতে পারেননি। উলটে আতঙ্ক ছড়ায় চারপাশে।
মধ্যাহ্নভোজের আগের এই ঘটনার জেরে স্কুল চত্বর কার্যত রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে। আতঙ্কে ছুটে পালায় অনেক ছাত্রছাত্রী। কেউ আবার ক্লাসরুমে কিংবা স্কুলের নির্জন কোণে লুকিয়ে পড়ে নিরাপত্তার আশায়। এমন হিংসার দৃশ্য অনেকের মনেই দীর্ঘস্থায়ী ভয় গেঁথে দেয়। স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকারাও আতঙ্কে ছিলেন।
আরো পড়ুনঃ কলকাতায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস, দক্ষিণবঙ্গের তিন জেলায় ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা
এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মার খেয়ে গুরুতর জখম হন শিক্ষক রাকেশ রঞ্জন শ্রীবাস্তব এবং আরও একজন শিক্ষক ধর্মেন্দ্র কুমার। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ধর্মেন্দ্র কুমারের হাত ও কোমরে মারাত্মক আঘাত লেগেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। স্কুল কর্তৃপক্ষও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পথে হাঁটছে। এখন দেখার, শিক্ষকের উপর এভাবে চড়াও হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত অভিভাবকদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।






