রাজনীতির ময়দানে বিতর্ক যেন তাঁর সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। কখনও মন্তব্য, কখনও আচরণ—ডেবরার বিধায়ক তথা প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে ফের উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে এমন একটি ভিডিও, যা ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। বিরোধী দলনেতার সরাসরি প্রশ্ন—এই কী মমতার ‘সুশাসন’?
সম্প্রতি বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী একটি ভিডিও পোস্ট করেন নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে। ভিডিওটি রাজ্য স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBUHS) ভিতরে রেকর্ড করা। সেখানে দেখা যাচ্ছে, একটি ঘরে বসে আছেন হুমায়ুন কবির। কিছুক্ষণ পরে ঘরে প্রবেশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার প্রলয় চক্রবর্তী। কথোপকথনের মাঝেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। অভিযোগ, আচমকাই জুতো পরা পায়ে প্রলয়কে লাথি মারেন বিধায়ক হুমায়ুন কবির।
লাথি মারার পরেও থামেননি বিধায়ক, এমনটাই দাবি করছেন শুভেন্দু অধিকারী ও তাঁর অনুগামীরা। তাঁদের দাবি, ঘর থেকে বেরনোর সময় প্রলয়বাবুকে ঘুসিও মারেন হুমায়ুন। ভিডিয়োয় সেই দৃশ্য স্পষ্ট না হলেও, পুরো ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর কটাক্ষ, “এই ভিডিয়োই প্রমাণ করে দিচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের ঔদ্ধত্য ও দুঃসাহসের কোনও সীমা নেই।”
এই প্রথম নয়, বিতর্কে জড়ালেন হুমায়ুন কবির। কিছুদিন আগেই ভোট পরবর্তী হিংসায় নিহত এক ছাত্রীর মায়ের হাতে টাকা গুঁজে দিতে গিয়ে অপদস্থ হয়েছিলেন তিনি। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এই ভিডিও ভাইরাল। বিরোধীরা দাবি করছে, এই ঘটনা শুধু একজন সরকারি আধিকারিককে অপমান নয়, বরং প্রশাসনিক কাঠামোর অপমান।
আরও পড়ুনঃ Viral video : ‘হোমওয়ার্ক না করলেই কি মারবে?’— শিক্ষককে প্রকাশ্যে পেটাল পড়ুয়ার বাবা-মা! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে চঞ্চল্য!
এই প্রসঙ্গে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস বা বিধায়ক হুমায়ুন কবির—কেউই মুখ খোলেননি। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর থেকেও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। শুভেন্দুর প্রশ্ন, “এই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পরেও যদি সরকার চুপ করে থাকে, তবে কি ধরে নেওয়া হবে, এমন আচরণকেই এখন ‘নিউ নর্মাল’ বানাতে চাইছে তৃণমূল?” রাজ্য রাজনীতির অন্দরমহলে এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।





