Rajnath Singh : ‘যুদ্ধ দু’মাস, এক বছর, এমনকী পাঁচ বছরও চলতে পারে’— রাজনাথ সিংয়ের সতর্কবার্তা! সেনাকে দীর্ঘ লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকার ইঙ্গিত!

দেশের সীমান্তে হঠাৎ করে তৈরি হওয়া অস্থিরতা নতুন নয়। কখনও নিয়ন্ত্রণরেখা, কখনও আন্তর্জাতিক সীমান্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই লুকিয়ে থাকে অনিশ্চয়তার ছায়া। সম্প্রতি পহেলগামের ঘটনায় যে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল, আপাতত সংঘর্ষবিরতির মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও যুদ্ধের রেশ কিন্তু এখনও কাটেনি। আর ঠিক এই সময়েই প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের একটি বক্তব্য নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

মধ্যপ্রদেশের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে রাজনাথ বলেন, বর্তমান সময়ে যুদ্ধ অনেকটা আকস্মিকভাবে শুরু হয়ে যায়। ফলে যুদ্ধ কতদিন চলবে, তা কেউ আগে থেকে বলতে পারে না। “কখনও যুদ্ধ দুই মাস, কখনও এক বছর কিংবা পাঁচ বছর পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে”— মন্তব্য প্রতিরক্ষামন্ত্রীর। তাই দীর্ঘকালীন সংঘাতের জন্য দেশের সর্বদা প্রস্তুত থাকা উচিত বলেই তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন। আর তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।

ওই অনুষ্ঠানে ছিলেন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান, নৌসেনা প্রধান দীনেশ ত্রিপাঠী-সহ সেনার শীর্ষকর্তারা। সেখানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিশেষভাবে প্রশংসা করেন ভারতীয় সেনার সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর। তাঁর কথায়, এই অভিযান প্রমাণ করেছে যে দেশীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির উপর ভরসা করেই সাফল্য পাওয়া সম্ভব। “আত্মনির্ভরতা এখন শুধু একটি লক্ষ্য নয়, ভবিষ্যতের জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে”— মন্তব্য রাজনাথের।

প্রসঙ্গত পহেলগামের ঘটনার পর ভারত কড়া জবাব দেয়। পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা মোট নয়টি জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করে দেয় ভারতীয় বায়ুসেনা। পাল্টা হিসেবে ভারতের উপর আক্রমণের চেষ্টা করে ইসলামাবাদ। তবে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাকিস্তানের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। শুধু তাই নয়, পালটা অভিযানে অন্তত ১১টি পাক বিমানঘাঁটি ধ্বংস হয়। সবমিলিয়ে শতাধিক জঙ্গি ও প্রায় ৪০ জন পাক সেনা নিহত হয়। অবশেষে পাকিস্তানের অনুরোধে ভারত সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়।

আরও পড়ুনঃ India Export: আমেরিকার শুল্কে বিপাকে ভারতীয় রফতানি, ৪০টি দেশে নতুন বাজার গড়ে পাল্টা চাল নয়া দিল্লির!

যদিও বর্তমানে সংঘর্ষবিরতি জারি আছে, তবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে সংশয় কাটছে না দিল্লির। ইতিহাস বলছে, ইসলামাবাদের প্রতিশ্রুতি অনেক সময়ই টেকেনি। আর সেই কারণেই রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্য যে নিছক সতর্কবার্তা নয়, তা স্পষ্ট। সীমান্ত পরিস্থিতি যে কোনও মুহূর্তে বদলে যেতে পারে, আর তার জন্য প্রস্তুত থাকাই এখন ভারতের প্রধান লক্ষ্য।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles