সদ্যই উদ্বোধন হয়েছে অযোধ্যার রামমন্দিরের। প্রায় ৫০০ বছর আগে রামমন্দির ভেঙে তৈরি হয়েছিল বাবরি মসজিদ। ১৯৯২ সালে করসেবকরা ভেঙে দেন সেই বাবরি মসজিদ। দীর্ঘ আইনি জটিলতার পর প্রমাণ হয়েছে যে রামমন্দির ভেঙ্গেই বাবরি মসজিদ তৈরি হয়েছিল। এরপর সেখানেই ফের রামমন্দির বানানোর নির্দেশ মেলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। ফের তেমনই এক ঘটনা ঘটল।
জ্ঞানব্যাপী মসজিদ নিয়ে অনেকদিন ধরেই চলছে চর্চা। এবার আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (এএসআই)-এর সমীক্ষায় সামনে এল এক বড় তথ্য। উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে অবস্থিত জ্ঞানব্যাপী মসজিদের নীচে রয়েছে সপ্তদশ শতাব্দীর হিন্দু মন্দিরের অস্তিত্ব, এমন দাবী জানিয়েই মামলা দায়ের হয়েছিল আদালতে। ২০২৩ সালে ওই মসজিদে শুরু হয় নৃতত্ত্ব সমীক্ষা। সেই রিপোর্ট এবার এল সামনে।
মসজিদের নীচে মিলল হিন্দু মন্দিরের অস্তিত্ব
গতকাল, বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার সমীক্ষার রিপোর্ট জানান হিন্দু পক্ষের আইনজীবী বিষ্ণু শঙ্কর জৈন। তিনি জানান, এই রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে জ্ঞানব্যাপী মসজিদের নীচে রয়েছে হিন্দু মন্দিরের কাঠামো। সেই কাঠামোর উপরেই তৈরি হয়েছে জ্ঞানব্যাপী মসজিদ।
এএসআই রিপোর্ট পড়ে হিন্দু ধর্মের আইনজীবী বলেন, “এএসআই রিপোর্টে বলা হয়েছে হিন্দু মন্দিরের কাঠামো ও স্তম্ভগুলিকে ব্য়বহার করেই মসজিদ তৈরি করা হয়েছে। হিন্দু মন্দিরের পিলার বা স্তম্ভে প্লাস্টার করে পরিকাঠামোয় সামান্য পরিবর্তন করা হয়েছে। হিন্দু মন্দিরের স্তম্ভে যে খোদাইগুলি ছিল, সেগুলিরও অস্তিত্ব মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল”।
ওই আইনজীবী এও জানান যে মসজিদের দেওয়ালেও মিলেছে হিন্দু মন্দিরের অস্তিত্ব। দেওয়ালে নানান হরফ খোদাই করা রয়েছে যা দেবনাগরী, কন্নড়, তেলুগু ও অন্যান্য ভাষায় লেখা। মন্দিরের দেওয়ালে হিন্দু ধর্মের নানান চিহ্নও মিলেছে।
আইনজীবী বলেন, “আর্কিওলজিক্যাল সমীক্ষার সময়ে বর্তমান কাঠামো ও পূর্ববর্তী কাঠামোয় একাধিক খোদাই হরফের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। সমীক্ষা চলাকালীন ৩৪টি লিপি রেকর্ড করা হয়েছে। পাথরের উপরে যে খোদাই রয়েছে, তা প্রমাণ করছে এখানে হিন্দু মন্দির ছিল। যা নতুন কাঠামো (জ্ঞানব্যাপী মসজিদ) তৈরির সময় পুনর্ব্যবহার ও পরিবর্তন করা হয়েছে। পুরোনো কাঠামো ভেঙে, তার পুনর্ব্যবহার করে নতুন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। জনার্দন, রুদ্র ও উমেশওয়ারার মতো দেবতার নামের উল্লেখ পাওয়া গিয়েছে ওই শিলালিপিতে”।






