স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতাতে জোর করে চাঁদা নেওয়ার জুলুম, অভিযোগ তৃণমূল প্রভাবিত শিক্ষক সংগঠনের বিরুদ্ধে

সরকারি স্কুলে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সরকারের তরফে দেওয়া টাকাতেই হয়। কিন্তু এবার ক্রীড়া প্রতিযোগিতার জন্য শিক্ষকদের হুমকি দিয়ে টাকা তোলার অভিযোগ উঠল তৃণমূল প্রভাবিত শিক্ষক সংগঠনের বিরুদ্ধে। এই নিয়ে উত্তাল এলাকা।

কোথায় ঘটল এমন ঘটনা?  

এমন ঘটনা ঘটেছে জলপাইগুড়িতে। জানা গিয়েছে, আগামী ২৭ ও ২৭ জানুয়ারি ওই জেলার প্রাথমিক, নিম্ন বুনিয়াদি, শিশু শিক্ষা কেন্দ্র, মাদ্রাসাগুলিতে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হবে। ধূপগুড়ি ৩, ধূপগুড়ি ৪ ও ধূপগুড়ি পশ্চিম মণ্ডলের স্কুল নিয়ে হবে এই প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতার খরচ বহন করে জেলা শিক্ষা দফতর। কিন্তু শিক্ষকদের থেকে তোলা হচ্ছে চাঁদা।

সরকারি নির্দেশিকায় কিন্তু স্পষ্ট জানানো রয়েছে যে স্কুল স্পোর্টসের জন্য শিক্ষকদের থেকে কোনও টাকা নেওয়া যাবে না। কিন্তু তা সত্ত্বেও জোর করে ভয় দেখিয়ে শিক্ষকদের থেকে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার জন্য চাঁদা তোলা হচ্ছে তৃণমূল প্রভাবিত শিক্ষক সংগঠনের তরফে। জানা গিয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষকদের থেকে ৯০০ টাকা করে ও অস্থায়ী শিখক-শিক্ষিকা ও শিক্ষা কর্মীদের থেকে ৩০০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।  

স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতাতে জোর করে চাঁদা নেওয়ার জুলুম, অভিযোগ তৃণমূল প্রভাবিত শিক্ষক সংগঠনের বিরুদ্ধে

এই ঘটনায় শিক্ষক মহলে ক্ষোভ দেখা গিয়েছে। শাসক দলের শিক্ষক সংগঠনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা করেছে বিরোধী শিক্ষক সংগঠন। এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছে।

এই ঘটনায় বিজেপি প্রভাবিত প্রাথমিক শিক্ষা সংঘের জেলা সম্পাদক জয়ন্ত কর বলছেন, সরকারি অর্থেই সরকারি স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। কিন্তু এখন এখানে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বদলি করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে স্পোর্টসের জন্য চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি এও দাবী করেছেন যাতে স্পোর্টস মিটে গেলে সমস্ত শিক্ষক সংগঠন ব্যয়ের হিসেব প্রকাশ করে।     

এই ঘটনায় অস্বস্তিতে শাসকদল প্রভাবিত শিক্ষক সংগঠন

এই ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূল প্রভাবিত প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের জেলা সভাপতি তথা স্পোর্টস কমিটির কো-অর্ডিনেটর স্বপন বসাক বলেন, “স্পোর্টস সংক্রান্ত মিটিংগুলিতে চাঁদা আদায় সংক্রান্ত বিষয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। আর তৃণমূল শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকে কাউকে চাঁদা আদায় করতে নির্দেশ দেওয়া হয়নি। চলতি বছরের স্পোর্টসের জন্য ইতিমধ্যে ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে শিক্ষা দফতর। সুতরাং চাঁদা আদায়ের প্রশ্নই নেই। ফলে কেউ যদি তা করে থাকে তাহলে চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ জানান। তদন্ত হবে”।

এই ঘটনায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান লৈক্ষ্য মোহন রায়ের বক্তব্য, “সরকারি নির্দেশ রয়েছে শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা যাবেনা। চাঁদা আদায় করা হচ্ছে এই জাতীয় অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে না করে আমার কাছে করুক। তবে আমি এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ পাইনি”।

RELATED Articles