মানবিক মুখ্যমন্ত্রী! সোশ্যাল পোস্টে জানতে পেরে ছাত্রীর অভাবের সংসারে পৌঁছালেন খাবার, ওষুধ, স্টাডি টেবিল

সংসারে অভাব নিত্যদিনের সঙ্গী। তার সঙ্গে জুঝে ওঠা সম্ভব হচ্ছিল না ক্লাস এইট এর মেয়েটার। বাবা যা রোজগার করে তাতে সংসার চলে না। পড়াশোনার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ, ঘর কোন‌ও কিছুই নেই। স্টাডি টেবিল একটা হলে হয়তো সুবিধা হয়! কিন্তু কিনে দেবে কে?

বাবা উত্তম দাস অফিস বয় হিসাবে কাজ করেন। তাঁর পক্ষে খাবারের সংস্থান করার পর আর মেয়ের জন্য একটা পড়ার টেবিল কেনা সম্ভব হয়নি।

অগত্যা পড়ার টেবিলের সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্য নয় অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী বর্ষা দাস।  ফেসবুকেই ভিডিও মেসেজ করেছিল সে।  কিন্তু সেই বার্তার কোনও আশাজনক উত্তর তার কাছে পৌঁছায়নি। এদিকে করোনাকালীন অবস্থায় করোনা  আক্রান্ত হয় তাঁর মা। এসবের মধ্যেই তার মায়ের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। কি করবে ভেবে দিশাহীন হয়ে পড়ে একটা পরিবার।

এরপর আবার‌ও সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্য নেয় মেয়েটি। তবে এবার নিজের জন্য টেবিল সে নয়, মায়ের জন্য খাবার ও ওষুধ চেয়ে এই পোস্ট করে সে। আর এই পোস্টেই কামাল হয়। বর্ষার ফেসবুক পোস্ট নজর কাড়ে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের। এরপর দ্রুত ওই ছাত্রীর বাড়িতে সহায়তা পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেন তিনি।

সরকারি আধিকারিকরা খাবার, ওষুধ, স্টাডি টেবিল নিয়ে দেবদূতের মতো উপস্থিত হয় বর্ষার বাড়িতে। এই ঘটনায় যারপরনাই খুশি দাস পরিবার।

কি বলছে সেই ছোট্ট মেয়েটা? বর্ষা বলে,’আমার বাবার বেতন খুব কম। সব সময় বাড়িতে টাকাপয়সার সমস্যা।চারজনের সংসারে একটি মাত্র ঘর। মুখ্যমন্ত্রী স্যারের কাছ থেকে স্টাডি টেবিল পেয়ে খুব খুশি আমি। করোনা আক্রান্ত মায়ের জন্য ওষুধ ও খাবারও মিলেছে।’ ছাত্রীর বাবা উত্তম দাস, ‘মেয়ের ভিডিও ম্যাসেজের কথা জানতাম না। প্রথমে তো মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে এই সহায়তা পেয়ে হতবাক হয়ে যাই।’

জানা গেছে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর অত্যন্ত ভরসা করেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। এই প্রথম নয় এর আগেও বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছেছে তাঁর সাহায্যের হাত।

RELATED Articles