“বাবা চাননি আমি অভিনেত্রী হই”, “প্রযোজকদের ফোন এলেই বাবা সরাসরি বলে দিতেন…মেয়ে অভিনয় করবে না!”—ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে ‘বেলা’ চরিত্রের মিল খুঁজে পেলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত! সেদিন বাবার আপত্তি সত্ত্বেও কীভাবে তিনি হলেন টলিউডের প্রথমসারির অভিনেত্রী?

সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলালেও মেয়েদের লড়াই আজও যেন শেষ হয়নি। সেই লড়াইয়েরই এক প্রতীক বেলা দে। যিনি এমন এক সময়ে ঘর-সংসারের গণ্ডি ভেঙে বাইরে পা বাড়িয়েছিলেন, যখন মেয়েদের কাজ করা সমাজে সহজভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল না। সেই সাহসী বেলার গল্প এবার ফুটে উঠছে বড় পর্দায়, অনিলাভ চট্টোপাধ্যায়ের পরিচালনায়। আর বেলার চরিত্রে ধরা দিচ্ছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।

আশ্চর্যজনকভাবে, এই চরিত্রের সঙ্গে নিজের জীবনের লড়াইয়ের মিল খুঁজে পাচ্ছেন অভিনেত্রী। ঋতুপর্ণা জানালেন, ছোটবেলা থেকেই তাঁর পরিবারে পড়াশোনার কড়া পরিবেশ ছিল। পরিবারের অধিকাংশই সরকারি দফতরের উচ্চপদস্থ কর্মী। সেখানে মেয়ে সিনেমার জগতে নাম লেখাবে— এ কথা তাঁর বাবা কোনও দিনই মেনে নিতে পারেননি। অভিনেত্রীর কথায়, “প্রযোজকেরা ফোন করলে বাবা সরাসরি বলে দিতেন, আমার মেয়ের সিনেমায় আগ্রহ নেই। আর ফোন করবেন না।

উনি চাইতেন আমি আইএএস বা আইএফএস হই।” তবে এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর মা, যিনি মেয়েকে স্বপ্ন দেখাতেন অন্য পথে হাঁটার। এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে আশ্চর্য মিল রয়েছে ‘মহিলামহল’-এর বেলার জীবনে। ছবিতে দেখা যাবে, পরিবারের শত বাধা সত্ত্বেও বেলা মায়ের অনুপ্রেরণায় রান্নার বই লিখে তৈরি করেছিলেন নিজের জায়গা। ঠিক তেমনই ঋতুপর্ণাও নিজের মায়ের প্রেরণায় এগিয়ে গিয়েছিলেন সিনেমার দুনিয়ায়।

তাই ছবির মুক্তির আগে অভিনেত্রী বারবার মায়ের কথা মনে করছেন। তিনি জানান, শুটিং চলাকালীনই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তাঁর মা, আর শটের ফাঁকে তাঁকে হাসপাতালে দৌড়োতে হত। সেই সময়টা আজও তাঁর কাছে গভীর আবেগের। শুটিংয়ের অভিজ্ঞতার কথাও শোনালেন অভিনেত্রী। ছবির গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল কলকাতার ‘হিন্দুস্তান রেকর্ডস’-এর স্টুডিয়োয়, যা এশিয়ার প্রাচীনতম অডিও রেকর্ড স্টুডিয়ো হিসেবে পরিচিত।

আরও পড়ুনঃ India : বিশ্ব মঞ্চে ভারতের উত্থান! ২০৩৮ সালের মধ্যেই বদলাবে বিশ্ব অর্থনীতির মানচিত্র, দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হতে চলেছে ভারত!

একসময় এখানেই রেকর্ড করেছিলেন বহু কিংবদন্তি শিল্পী। ঋতুপর্ণার কাছে তাই এই অভিজ্ঞতা শুধু কাজ নয়, বরং এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে থাকার আনন্দ। শেষে ঋতুপর্ণা বললেন, তিনি সবসময় এমন ছবির অংশ হতে চান, যা শুধু বিনোদন নয়, ইতিহাসকেও সামনে আনে। আর ‘বেলা’ তাঁর কাছে তেমনই এক ছবি, যা কেবল এক মহিলার গল্প নয়, বরং সাহস, স্বপ্ন আর মায়ের অবিচল সমর্থনের কথাও বলে। ২৯ অগস্ট ছবির মুক্তির আগে তাই অভিনেত্রীর আশা, দর্শকও এই অনুপ্রেরণাদায়ী কাহিনির সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পাবেন।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles