বিশ্বজুড়ে যখন অর্থনৈতিক ভারসাম্যের পালাবদল চলছে, তখন ভারতও ধীরে ধীরে নতুন উচ্চতায় পৌঁছচ্ছে। সাম্প্রতিক কয়েক বছরে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিশ্বের নজর কেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী এক দশকের মধ্যে দেশটির অর্থনৈতিক শক্তি এমন জায়গায় পৌঁছবে, যা বিশ্বমঞ্চে ভারতের অবস্থান আমূল বদলে দিতে পারে।
‘আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং’ নামে আন্তর্জাতিক আর্থিক পরামর্শক সংস্থার একটি সাম্প্রতিক রিপোর্ট জানাচ্ছে, ২০৩৮ সালের মধ্যেই ভারত হয়ে উঠতে পারে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওই সময়ে ভারতের অর্থনীতির আকার দাঁড়াতে পারে ৩৪.২০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। শুধু তাই নয়, ভারতের অর্থনৈতিক শক্তির অন্যতম ভরসা হবে তরুণ কর্মশক্তি, উচ্চ সঞ্চয় হার এবং ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ।
সংস্থার প্রধান নীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডি কে শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, ভারতের শক্তি তার দক্ষ যুব সম্প্রদায় এবং প্রযুক্তিগত অভিযোজনের ক্ষমতায়। তিনি মনে করেন, “গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত খাতে নমনীয়তা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ফলে ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারতের যে লক্ষ্য স্থির হয়েছে, তার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া সম্ভব।” এছাড়া রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে যে, সরকারি ঋণ ও জিডিপির অনুপাত ধীরে ধীরে কমছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির পক্ষে ইতিবাচক সংকেত।
এই মুহূর্তে ভারতের অর্থনীতির আকার ৪ লক্ষ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই জাপানকে টপকে ভারত এখন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি। এর আগে নীতি আয়োগের সিইও বিভিআর সুব্রহ্মণ্যম দাবি করেছিলেন, খুব শিগগিরই ভারত আমেরিকা, চিন এবং জার্মানির পর বিশ্বের তৃতীয় স্থানে জায়গা করে নেবে। মোদি সরকারের লক্ষ্য ছিল ২০২৭ সালের মধ্যেই দেশকে পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করা। যদিও সেই লক্ষ্য পূর্ণ না হলেও ২০২৯ সালের মধ্যে অন্তত তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে কেন্দ্র।
আরও পড়ুনঃ Private video leak: ‘আমার ফোন সারাতে দিয়েছিলাম, আর আজ সেটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল’— রিপেয়ার শপ থেকেই ফাঁস হল ব্যক্তিগত ভিডিও, চরম মানসিক অশান্তিতে তরুণী!
‘আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং’-এর বিশ্লেষণ বলছে, ক্রয়ক্ষমতার বিচারে চিন থাকবে শীর্ষে, তবে দেশটি জনসংখ্যার চাপ ও ঋণের বোঝায় জর্জরিত। অন্যদিকে আমেরিকার ঋণের পরিমাণ তার জিডিপির তুলনায় অনেক বেশি। তুলনায় ভারত রয়েছে একটি সুবিধাজনক অবস্থানে—বৃহৎ তরুণ জনসংখ্যা, স্থিতিশীল অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং সঞ্চয়ের উচ্চ হার ভবিষ্যতের পথকে মজবুত করছে। যদিও মার্কিন শুল্কনীতির প্রভাব কিছুটা পড়তে পারে, কিন্তু বিকল্প রপ্তানি বাজার এবং শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ বাজার সেই প্রভাবকে অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারবে। সব মিলিয়ে, আগামী এক দশকের মধ্যে ভারত যে বৈশ্বিক অর্থনীতির মেরুদণ্ড হয়ে উঠতে চলেছে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে আর কোনও সংশয় নেই।





