গত ১১ই জুলাই ছিল বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। এদিন ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের তরফে জানানো হয় যে আগামী বছরই ভারতের জনসংখ্যা চীনের জনসংখ্যাকে টপকে যাবে। এই তথ্য সামনে আসার পর থেকেই দেশজুড়ে নানান তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে। এবার এই নিয়ে মন্তব্য করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত। তিনি বলেন যে জনসংখ্যা বাড়ানোর কাজ তো পশুরাও করে। আর তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে এবার বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করেছে।
কর্নাটকের কালবুর্গে অবস্থিত শ্রী সত্য সাঁই ইউনিভার্সিটি ফর হিউম্যান এক্সিলেন্সের প্রথম দীক্ষিান্ত সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন মোহন ভাগবত। এই সমাবেশেই তিনি বলেন, “মানুষের কাছে যদি বুদ্ধি না থাকত তাহলে মানুষ পৃথক সবচেয়ে বেশি দুর্বল প্রাণী হত। কিন্তু শুধুমাত্র বুদ্ধির জোরেই আজ সে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ট প্রাণী। শুধু মাত্র খাওয়া-দাওয়া করা আর জনসংখ্যা বাড়ানোই মানুষের একমাত্র কাজ নয়। শুধু এই কাজ তো পশুরাও করে”।
তিনি আরও বলেন, “শক্তিশালী সে জীবনে বেঁচে থাকবে, জঙ্গলের এটাই নিয়ম। কিন্তু মানুষের ভাবনার পদ্ধতি একদম আলাদা। মানুষ মনে করে সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে বাঁচতে সাহায্য করব”।
এই সফরে তিনি ধর্মান্তর নিয়ে নানান কথা বলেন। মোহন ভাগবত কথায়, “ধর্মান্তর মানুষকে একাকী বানিয়ে দেয়। যে মানুষ ধর্মান্তরিত হয়, সেই মানুষ নিজের শিকড় থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এই জন্যই আমাদের ধর্মান্তর বন্ধ করা উচিত”।
হিন্দুধর্মের গোঁড়ামিকেও নির্মূল করতেও নির্দেশ দেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান। বলেন। “হিন্দু সমাজে প্রধান সমস্যা হলো অস্পৃশ্যতা এবং বৈষম্য। এই বিষয়গুলি মানুষের মনে গেঁথে গেছে। এই বিষয়গুলি শাস্ত্রে নেই। সুপ্রাচীন কাল থেকেই আমাদের মাথায় এগুলো ঢুকে গেছে। সময় লাগবে এই ভুল চিন্তা ভাবনাগুলিকে মন থেকে দূর করার জন্য”।
বলে রাখি, রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে চীনের জনসংখ্যা ১.৪২৬ আরব আর ভারতের জনসংখ্যা ১.৪১২ আরব। রাষ্ট্রসংঘের অনুমান, ২০২৩ সালের মধ্যে ভারতের জনসংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে ১.৪২৯ আরবেযা চীনের থেকে বেশি। ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতের জনসংখ্যা হতে পারে ১.৬৬৮ আরব ও চীনের হতে পারে ১.৩১৭ আরব। অর্থাৎ ভারতের জনসংখ্যা যে হারে বাড়বে, চীনের জনসংখ্যা হ্রাস হবে ঠিক তেমনই হারে।





