কর্মসূত্রেই আলাপ, তারপর প্রেম, যোগীরাজ্যেই মালাবদল করে সাত পাকে বাধা পড়লেন বাংলার দুই সমকামী যুবতী

প্রেম যে কোনও বাধা মানে না, সবকিছু অতিক্রম করে যে শেষ পর্যন্ত ভালোবাসার জয় হয়, তা ফের প্রমাণ করলেন বাংলারই দুই যুবতী। উত্তরপ্রদেশে কাজ করতে গিয়েই আলাপ দু’জনের। ধীরে ধীরে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয় তাদের। অবশেষে যোগীরাজ্যেই গাঁটছড়া বাঁধলেন তারা।

কী ঘটেছে ঘটনাটি?

ওই যুবতীর নাম জয়শ্রী রাহুল এবং রাখী দাস। এরা দু’জনেই পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা। উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়া জেলায় এক বাজনার দলে কাজ করতেন দু’জনে। ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব হয় তাদের মধ্যে। তারপর সেই সম্পর্ক গড়ায় প্রেম পর্যন্ত। এরপরই বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন তারা।

দুই সমকামী যুবতীর বিয়ের যাত্রাপথ মসৃণ ছিল না। সুপ্রিম কোর্ট সমকামী সম্পর্ককে মান্যতা দিলেও সমকামী বিয়েকে দেয়নি এখনও। এর ফলে জয়শ্রী ও রাখী প্রথমে যান দেওরিয়া জেলার দীগগেশ্বরনাথ মন্দিরে বিয়ে করার জন্য। কিন্তু সেখানকার পুরোহিত তাদের বিয়ে দিতে রাজি হন নি।

পুরোহিত তাদের জেলা কর্তৃপক্ষের থেকে অনুমতি নিয়ে আসতে বলেন। প্রেম বাধা মানে নি। দুই যুবতী তখন আদালতে গিয়ে বিয়ের জন্য নটারি করেন। এরপর গত সোমবার তারা দেওরিয়ার বিখ্যাত ভাগাদা ভবানী মন্দিরে গিয়ে পুরোহিতের উপস্থিতিতেই মালাবদল সারেন ও একের অপরের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন।

বিয়ের আগে জয়শ্রী ও রাখী একটি পোস্টও করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই পোস্টে নিজেদের প্রেমের গল্পের কথা জানিয়েছেন তারা। তাঁর এও জানান যে প্রাথমিক বাধা পেরিয়ে বিয়ে করলেও আগামী দিনে বর্তমান সমাজব্যবস্থায় তাদের অনেক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। পোস্টে তারা জানান যে তারা আগামী দিনে একসঙ্গে মিলে সমস্ত কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করবেন ও নিজেদের সম্পর্ককে দৃঢ় রাখবেন, একথা জানিয়েই একে অপরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জয়শ্রী ও রাখী।

RELATED Articles