বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে লাখ-লাখ টাকার প্রতারণা, স্বপ্ন ভেঙে চুরমার, মাথায় হাত প্রতারিতদের, প্রতারকের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ

চাকরি হবে, তাও আবার দেশে নয়, বিদেশে। সেই স্বপ্ন নিয়ে একজনকে বিশ্বাস করে তাঁর হাতে তুলে দিয়েছিল লক্ষ লক্ষ টাকা। কিন্তু দিন যায়, মাস যায়, বছর ঘুরতে গেল, সেই চাকরি আর হল না। আর না দেখা মিলল সেই চাকরির টোপ দেওয়া ব্যক্তির। প্রায় ২৫ জ  যুবক-যুবতীর থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে এখন পগারপার প্রতারক। তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ প্রতারিত যুবক-যুবতীদের।

কী ঘটেছিল ঘটনাটি?

ঘটনাটি ঘতেচজে সোদপুরের উত্তরপল্লীতে। সেখানকার ব্যবসায়ী তপন কুমার রায়ের ট্যুরস অ্যান্ড ট্যুরিজমের ব্যবসা রয়েছে। কেউ বিদেশ যেতে চাইলে তাঁকে টিকিট কেটে দেওয়া থেকে ভিসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার কাজ তাঁর। এরই মধ্যে হঠাৎই বেশ কিছু যুবক-যুবতীদের তিনি বলেন যে বিদেশে চাকরির সুযোগ রয়েছে।

জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তি জানান, বিদেশে বেশ দফতরে চাকরি করে দিতে পারবেন তিনি। কাতার থেকে শুরু করে নিউজিল্যান্ড, দুবাই, সৌদি আরব, ডেনমার্কে চাকরি দেওয়ার কথা বলেছিলেন তপন কুমার রায়। তাঁর সেই ফাঁদে পা দেন ২৫ জন যুবক-যুবতী। তাদের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতান তপন কুমার রায়।

জানা গিয়েছে, চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে কারোর থেকে ৫০ হাজার, কারোর থেকে ৬০ হাজার তো কারোর থেকে আবার ১ লক্ষ টাকাও নেওয়া হয়েছিল। অনলাইন পেমেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে জানান চাকরিপ্রার্থীরা। এমনকি, তাদের থেকে নথিপত্র নেওয়া হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও চাকরি পান নি কেউই। ফলে আবেদনকারীরা টাকা ফেরত চান।  

কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে আর তপন রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না চাকরিপ্রার্থীরা। নানা লিফলেটে ওই ব্যবসায়ীর ছবি দিয়ে নানান জায়গায় লাগানো ছিল, সেগুলোও এখন আর নেই। ফলে আবেদনকারীরা বুঝতে পারেন যে তারা প্রতারিত হয়েছেন। এরপরই অভিযুক্তর বাড়িতে যান তারা। টাকা ফেরত দেওয়ার দাবী জানিয়ে দীর্ঘক্ষণ ওই বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান তারা। বাড়ির ভিতর থেকে প্রতারকের স্ত্রী জানান যে তাঁর স্বামী কোথায় তিনি জানেন না।   এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে খড়দহ থানার পুলিশ।  

প্রতারিতদের মধ্যে একজন বলেন, “আমাকে ডেনমার্কে চাকরি দেওয়া হবে বলে থেকে ৬৮ হাজার টাকা নিয়েছিল। চাকরি এবং টাকা কোনওটাই পাইনি”। অন্য একজন বলেন, “বিগত ছয় থেকে আট মাস ধরে আমাদের ঘোরাচ্ছে। এখন দেখছি বাড়িতে নেই। আমরা চাই পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আমাদের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করুক”।

RELATED Articles