ভারত ও চীনের মধ্যে কোন বিবাদ নেই, দাবি চীনা বিদেশমন্ত্রকের

লাদাখ নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে প্রবল উত্তেজনা চললেও চীনের বিদেশমন্ত্রক দেখাতে চাইছে যে দুই দেশের মধ্যে পরিস্থিতি খুবই স্বাভাবিক। চীনের বিদেশ মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান জানিয়েছেন, সীমান্তে ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত’। আলোচনার মাধ্যমেই উভয় দেশ এই সমস্যার সমাধান সূত্র খুঁজে বের করবে বলেও আশা তাঁর।

টানা ২৬ দিন ধরে যুদ্ধময় পরিস্থিতি চলছে ইন্দো-চীন সীমান্তে। মাঝে মধ্যেই শোনা যাচ্ছে দুই দেশের সেনাদের আস্ফালনের খবর। সোমবার সকালেও খবর মেলে লাদাখের কাছে অত্যাধুনিক অস্ত্র মজুত করছে চীন। সীমান্তের কাছে কী কী অস্ত্র সম্ভার মজুত করেছে সেই ইঙ্গিতও মিলেছে। সেই তালে তাল মিলিয়ে পিছিয়ে থাকেনি ভারতীয় সেনাও। তাঁরাও সীমান্তে শক্তি বৃদ্ধি করেছে।

তবে বেলা বাড়তেই চীনের বিদেশ মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেন, “সীমান্তের পরিস্থিতি স্থিতিশীল ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য। দুই দেশ নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে নির্বিঘ্নে সমস্যার সমাধান সূত্র খুঁজে বের করবে।”

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং জানিয়েছিলেন যে, সীমান্তে দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হতে দেবেন না। সেই প্রসঙ্গেই এদিন চীনের বিদেশ মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ানের পাল্টা জবাব দিয়ে বলেন, “চীনের জাতীয় সার্বভৌমত্ব, সুরক্ষা ও সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আমরাও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই আমাদের বিশ্বাস আলোচনার মাধ্যমেই দুই রাষ্ট্রনায়ক মীমাংসার পথ বাতলে নেবে।”

বুধবারই দুই দেশের সীমান্ত বিবাদ নিয়ে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে ‘বন্ধু’ ট্রাম্প মধ্যস্থতা করতে চান। কিন্তু নয়াদিল্লি তাঁকে সাফ মানা করে দেয়। পড়শি দেশের সঙ্গে সীমান্তের বিবাদ মেটাতে ভারত একাই সক্ষম, এই বার্তা পাঠানো হয় হোয়াইট হাউসে।

যতই চীনের বিদেশমন্ত্রক পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে দেখানোর চেষ্টা করুক না সমস্যা যে কোথাও একটা হয়েছে তা সাধারণ মানুষও বুঝতে পারছে। গোটা দেশে ঝড় উঠেছে যে চীনা সামগ্রী বয়কট করতে হবে। এমনিতেই মারণ করোনা ভাইরাস ছড়ানোর জন্য চীনের ওপর খাপ্পা ভারতসহ গোটা বিশ্ব সেখানে লাদাখ নিয়ে চীনের উৎসাহ ভারতীয়দের মধ্যে বেশ রাগ জাগিয়েছে। কথায় আছে কিন্তু হিন্দি-চিনি ভাই ভাই, এখন দেখার কবে এই লাইন আবার সত্যি হয়।

RELATED Articles

Leave a Comment