শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চার দেওয়ালের ভেতর সাধারণত থাকে নিয়ম, শৃঙ্খলা আর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন। কিন্তু সেই জায়গাতেই যখন উত্তেজনা হিংসায় রূপ নেয়, তখন উদ্বেগ বাড়ে স্বাভাবিকভাবেই। কর্ণাটকের এক কলেজে এমনই একটি ঘটনা সামনে এসেছে, যা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—শিক্ষকদের নিরাপত্তা কতটা সুরক্ষিত?
ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণাটকের কালাবুরাগি শহরের একটি বেসরকারি হোমিওপ্যাথি কলেজে। অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার সময় হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকা বিষয়ের পরীক্ষা চলছিল। অভিযোগ, ওই সময় এক ছাত্র মোবাইল ফোন ব্যবহার করে নকল করার চেষ্টা করছিল। পরীক্ষার তদারকির দায়িত্বে থাকা সহকারী অধ্যাপক শিবারাজ কুমার বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তাকে প্রশ্ন করেন।
কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, অধ্যাপক প্রথমে ছাত্রটির উত্তরপত্র কেড়ে নেন এবং তাকে পরীক্ষার হল ছেড়ে বেরিয়ে যেতে নির্দেশ দেন। অভিযুক্ত ছাত্রের নাম শাহবাজ। এই নির্দেশে ক্ষুব্ধ হয়ে সে নাকি সহকারী অধ্যাপকের উপর হামলা চালায়। ঘটনাটি হঠাৎই ঘটে যাওয়ায় পরীক্ষাকক্ষে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। যদিও হামলার প্রকৃতি কতটা গুরুতর ছিল, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি।
কলেজ কর্তৃপক্ষ পরে ছাত্রের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হিসেবে জানানো হয়েছে, তাকে আসন্ন পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে না। তবে এখনও পর্যন্ত কলেজ ম্যানেজমেন্ট বা আক্রান্ত অধ্যাপক থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। পুলিশ জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুনঃ DA Case-Supreme Court: ‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও মানছে না রাজ্য?’ বকেয়া ডিএ না মেটায় আদালত অবমাননার মামলা, মুখ্যসচিবের বিরুদ্ধে নোটিসে চাপে সরকার!
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে কর্ণাটকের বিভিন্ন জেলায় শিক্ষকদের উপর হামলার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। অক্টোবর মাসে চিক্কামাগালুরুতে এক স্কুলশিক্ষিকার উপর নৃশংস হামলার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। আবার সেপ্টেম্বরে কোলারের মালুর তালুকে এক অটোচালকের বিরুদ্ধে এক শিক্ষিকাকে হেনস্তার অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়। এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলি দেখিয়ে দিচ্ছে, শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে এখন আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে।





