রাজ্যের সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে টানাপোড়েন নতুন কিছু নয়। বছরের পর বছর ধরে এই দাবি ঘিরে আন্দোলন, অবস্থান, এমনকি অনশনও হয়েছে। তবু সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। এবার সেই পুরনো ক্ষোভই নতুন করে সামনে এল, কারণ কর্মীদের দাবি—শীর্ষ আদালতের নির্দেশও নাকি মানা হচ্ছে না।
ডিএ সংক্রান্ত মামলায় আগেই রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল, অবিলম্বে ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিতে হবে এবং বাকি ৭৫ শতাংশ ৩১ মার্চের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। সরকারি কর্মীদের একাংশের মতে, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি। রাজ্যের তরফে স্পষ্ট অবস্থানও জানানো হয়নি বলে অভিযোগ।
এই পরিস্থিতিতে মামলাকারী পক্ষ ফের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁদের দাবি, আদালতের নির্দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই আদালত অবমাননার নোটিস দেওয়া হয়েছে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে। ৫ ফেব্রুয়ারি জারি হওয়া নির্দেশের পর এক সপ্তাহ কেটে গেলেও বকেয়া ডিএ মেটানো হয়নি—এই যুক্তিতেই নতুন করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
যৌথ মঞ্চের বক্তব্য, শুধু নির্দেশ মানা হয়নি তাই নয়, সরকার পুনর্বিবেচনার আবেদনও করেনি। সংগঠনের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষের কথায়, শীর্ষ আদালতের প্রতি ন্যূনতম সম্মান দেখানো হয়নি। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনিক স্তরে কোনও তৎপরতা চোখে পড়ছে না। দীর্ঘ আন্দোলনের পর আদালতের রায়ে স্বস্তির আশা জেগেছিল কর্মীদের মধ্যে, কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি বদলায়নি বলেই দাবি তাঁদের।
আরও পড়ুনঃ Kerala Story 2 : জোর করে ধর্মান্তরের দাবি নাকি ‘বিষা*ক্ত প্রোপাগান্ডা’? টিজার ঘিরে উত্তাল কেরল, ‘কেরালা স্টোরি ২’-এর বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ ও রাজনৈতিক ক্ষো*ভ চরমে!
এখন নজর ফের শীর্ষ আদালতের দিকেই। আদালত অবমাননার মামলায় কী অবস্থান নেয় রাজ্য সরকার, সেটাই দেখার। ডিএ ইস্যুতে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নতুন মোড় নিল এই আইনি লড়াইয়ে। সরকারি কর্মীদের আশা, এবার অন্তত স্পষ্ট সমাধানের পথে এগোবে পরিস্থিতি।





