একটি কলেজ চত্বরে এমন দৃশ্য! সামনে দাউদাউ আগুন, আর সেই আগুনে ছুটে বেড়াচ্ছেন এক যুবতী। সহপাঠীরা চিৎকার করছেন, শিক্ষক-শিক্ষিকারা হতবাক, কেউ কেউ মোবাইল বের করে ভিডিও করছেন। চারপাশে হইচই। কিন্তু কেন এমন ভয়াবহ পরিণতির পথে হাঁটলেন ওই ছাত্রীর মতো একজন তরুণী? কী এমন ঘটেছিল, যার জেরে কলেজ চত্বরে নিজেই নিজের শরীরে আগুন লাগাতে বাধ্য হলেন তিনি?
ওড়িশার বালাসোরে (Balasore, Odisha) এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত অধ্যাপক সমীর কুমার সাহু, কলেজেরই বিভাগীয় প্রধান। ছাত্রীর অভিযোগ, দিনের পর দিন তিনি কুপ্রস্তাব দিতেন। এমনকী, শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ দিতেন, রাজি না হলে ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেওয়ার হুমকি দিতেন। শুধু তাই নয়, কলেজের অন্যান্য ছাত্রছাত্রীরাও এই ঘটনার কথা জানত বলে জানা গিয়েছে। একসময় সাহস করে কলেজের ইন্টারনাল কমপ্লেন কমিটিতে (ICC) অভিযোগ জানান ওই ছাত্রী।
অভিযোগ জানানোর পরে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, সাত দিনের মধ্যে তদন্ত করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কিন্তু ১০ দিনের বেশি কেটে গেলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া তো দূরস্থান, তাঁকে ডেকে কোনও জবাবদিহিও করানো হয়নি বলে অভিযোগ। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলেন ওই তরুণী। প্রতিবাদ করতে গিয়ে আরও অপমান, আরও চাপে ভুগছিলেন তিনি।
শনিবার, বিক্ষোভ দেখানোর সময় আচমকাই প্রিন্সিপালের ঘরের দিকে দৌড়ে যান ওই ছাত্রী। সঙ্গে থাকা বোতল থেকে নিজের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন। করিডরে জ্বলন্ত অবস্থায় ছুটতে থাকেন। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আরেক ছাত্রও দগ্ধ হন। ওই ছাত্রীর শরীরের ৯০ শতাংশ ও ছাত্রটির ৭০ শতাংশ পুড়ে যায়। দুজনেই বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন ভুবনেশ্বর AIIMS-এ।
আরও পড়ুনঃ পুরনো দাপট নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ফিরছে বর্ষা! কোন কোন জেলায় পড়বে প্রভাব? জেনে নিন আগামী কয়েক দিনের আপডেট
ঘটনার পরই অভিযুক্ত অধ্যাপক সমীর কুমার সাহুকে গ্রেফতার করা হয়। কলেজের প্রিন্সিপাল দিলীপ ঘোষকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে। তদন্তে নেমেছে উচ্চশিক্ষা দফতর। তিন সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করে জানানো হয়েছে, দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ওড়িশা সরকার ছাত্রী ও আহত ছাত্রের চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহন করবে বলেও ঘোষণা করা হয়েছে।





