‘ধর্ষ*ণ নয়, অটো থেকে পড়ে গিয়েছিলাম!’ — নির্যাতিতার বাবার বিস্ফোরক দাবি, তদন্তে নতুন মোড় IIM কাণ্ডে!

রাত যত গভীর হচ্ছিল, শহরের অন্য প্রান্তে তখন ঘটছিল এমন এক ঘটনা, যা নিয়ে এখনও মুখরিত গোটা রাজ্য। কলকাতার এক নামী প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে কীভাবে রাতের অন্ধকারে ঢুকে পড়লেন এক মনোবিদ তরুণী? কে ডাকল তাঁকে? আবার কী এমন ঘটল যে, তিনিই পরে থানায় গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করলেন? তবে কি কোনও ফাঁদ ছিল পিছনে?

ঘটনার দিন IIM ক্যাম্পাসের বাইরের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে ওই তরুণীর প্রবেশ ও বেরিয়ে যাওয়ার মুহূর্ত। শুধু তাই নয়, টাওয়ার লোকেশন থেকেও স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে যে, নির্দিষ্ট সময়সীমায় তিনি দীর্ঘক্ষণ ছিলেন ওই প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই। এমন পরিস্থিতিতে পুলিসের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে ঘটনাস্থলের ঘরের ফরেন্সিক নমুনা, যা ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করা হয়েছে। সিল করে দেওয়া হয়েছে ঘর। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—আদৌ এই সাক্ষ্যপ্রমাণ একাধিক অভিযোগকে সত্যি বলে প্রমাণ করতে পারবে কি?

যদিও তরুণী প্রথমে নিজে থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, তবে অভিযোগের পর হঠাৎই যোগাযোগের বাইরে চলে যান তিনি। পুলিশ বারবার চেষ্টা করেও পাচ্ছে না তাঁর সাড়া। এরফলে এখনও পর্যন্ত তরুণীর মেডিক্যাল পরীক্ষা করা যায়নি, বাজেয়াপ্ত করা যায়নি তাঁর মোবাইল বা ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত পোশাকও। এদিকে অভিযুক্ত ছাত্রের মোবাইল ঘেঁটে কোনও ভিডিয়ো আছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল। মোবাইলের পাসওয়ার্ড জানার জন্য জেরা করলেও, অভিযুক্ত নীরব। ফলে তদন্তে তৈরি হয়েছে জটিলতা।

ঘটনায় নতুন মোড় এনে দিয়েছেন তরুণীর বাবা। তাঁর বিস্ফোরক দাবি—মেয়ে নাকি ফোনে জানিয়েছিল সে অসুস্থ, অটো থেকে পড়ে গিয়েছিল। এমনকি, এসএসকেএম হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে ভর্তি ছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “মেয়ে বাড়ি ফিরে জানায়, কোনও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি। কাউকে বলতেই বলা হয়েছিল ওই কথা।” এমন বয়ানের জেরে প্রশ্ন উঠছে—তাহলে কী কারণে তিনি প্রথমে অভিযোগ জানিয়েছিলেন?

আরও পড়ুনঃ Student Set Herself on Fire: “আমার ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেবে!” — অভিযোগ অগ্রাহ্য, কলেজ চত্বরে নিজের গায়ে আ*গুন লাগাল ছাত্রী!

যদিও অভিযোগ করা হয়েছে, নির্যাতিতা তরুণী ও তাঁর পরিবার তদন্তে সহযোগিতা করছেন না। তবে পুলিশ থেমে নেই। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পারিপার্শ্বিক তথ্য, ফরেন্সিক রিপোর্ট ও প্রযুক্তিগত প্রমাণ জোগাড়ে উঠেপড়ে লেগেছে তদন্তকারীরা। প্রশ্ন একটাই—এই চুপ করে থাকা, এই পিছু হটার নেপথ্যে কী রয়েছে? সামাজিক চাপ? না কি আরও গভীর কোনও ষড়যন্ত্র?

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles