রাজ্যের সমালোচনা করলেই এফআইআর কেন? লালবাজারকে তীব্র ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট!

এবার কলকাতা পুলিশের মুখ পুড়ল শীর্ষ আদালতে। এতদিন বিরোধীরা কলকাতা পুলিশ এবং রাজ্য প্রশাসন নিয়ে যে অভিযোগ করত কার্যত তাতে সিলমোহর দিল সুপ্রিম কোর্ট। রাজ্যের সমালোচনা কেউ করলেই তাকে কথায় কথায় এফআইআর দায়ের করে হেনস্থা করা নিয়ে এবার কলকাতা পুলিশকে তীব্র ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট।

ঘটনার সূত্রপাত মে মাসে। রোশনি বিশ্বাস নামে দিল্লি নিবাসী এক মহিলা কলকাতা রাজাবাজার এলাকায় রাস্তায় ভিড়ের ছবি পোস্ট করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেছিলেন যে, এই বেলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে না কেন?

এরপরেই অবাক করা ঘটনা ঘটে। লালবাজার থেকে সমন যায় রোশনির কাছে। তার বিরুদ্ধে বালিগঞ্জ থানায় এফআইআর দায়ের করা হয় যেখানে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানো সহ একাধিক মারাত্মক ধারা প্রয়োগ করা হয়।

এরপরই দিল্লি নিবাসী ওই মহিলা প্রথমে হাইকোর্টে যান। সেখানেই তাকে পুলিশের সামনে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। স্বাভাবিকভাবেই রোশনি সুপ্রিম কোর্টে যান। সেই শুনানিতেই বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় এবং বিচারপতি ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ আজ কলকাতা পুলিশকে রীতিমত তুলোধোনা করেছে। শীর্ষ আদালতের বক্তব্য, সরকারের সমালোচনা করলেই কথায় কথায় এফআইআর দায়ের করা যায় না। তাহলে বাক স্বাধীনতা বলে বিষয়টাই থাকবে না।

কলকাতা পুলিশের উদ্দেশ্যে সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্ন যে যদি কেউ বিদেশে থেকে এই রাজ্যের সমালোচনা করতেন তাহলে কি তাকে বিদেশ থেকে এই দেশে আনতেন? বলতে পারতেন, আসুন এবার আপনার ব্যবস্থা করছি! এটা স্বাধীন দেশ। স্বাধীন থাকতে দিন। যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে তা ভয়ঙ্কর।

মমতা সরকারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় রসায়নের অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্রকে একভাবে হেনস্থা করা হয়েছিল। আরামবাগ টিভির সম্পাদক এবং সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছিল অন্যায় ভাবে কারণ তিনি মমতা সরকারের কারচুপি নিজেদের চ্যানেলে দেখিয়েছিলেন। আরামবাগ টিভির সম্পাদক সফিকুল ইসলামের পরিবারকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল! এক চিকিৎসক রাজ্যে পিপিই কিটের অভাব নিয়ে পোস্ট করলে তাকেও কম হেনস্থার মুখে পড়তে হয়নি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকার বা সরকারের সঙ্গে জড়িত কোন ব্যক্তিদের সমালোচনা করলেই তাদেরকে রাজরোষে পড়তে হচ্ছে এই রাজ্যে। এই অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধীরা করে আসছেন এবং তাদের অভিযোগ শীর্ষ আদালত এই দিন রীতিমতো মান্যতা দিয়েছে। যার ফলে রাজ্য সরকারের রীতিমতো হেনস্থা হয়েছে এই দিন।

অন্যদিকে রোশনি বিশ্বাসকে পুলিশের সামনে হাজিরা দেওয়ার জন্য স্থগিতাদেশ জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এছাড়া তারা এটাও বলেছে যে পুলিশ যদি বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেয় তাহলে তখন তা আদালত রক্ষা করবে।

আরও অন্যান্য খবর