আজ, বৃহস্পতিবার আর জি কর কাণ্ডের দ্বিতীয় শুনানি চলছে সুপ্রিমকোর্টে। এদিন সিবিআইয়ের তরফে এই ঘটনার তদন্তের অন্তর্বর্তী রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। সেই রিপোর্ট দেখে প্রথম থেকেই পুলিশকে তুলোধোনা করা শুরু হয় শীর্ষ আদালতের তরফে। ময়নাতদন্তের পর কেন তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুকে অস্বাভাবিক মৃত্যু বলা হল, তা নিয়ে ওঠে প্রশ্ন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ নিয়ে বেশ অসন্তুষ্ট শীর্ষ আদালত। এদিন বিচারপতি পারদিওয়ালা আইনজীবী কপিল সিব্বলের কাছে জানতে চান, ময়নাতদন্ত কখন হয়েছে? সেই সময় আইনজীবী সিব্বল জানান, সন্ধ্যা ৬.১০ মিনিট থেকে ৭.১০ মিনিট। তখন বিচারপতি জানতে চান, সন্ধ্যায় ময়নাতদন্ত হওয়ার পর অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা রুজু করা হল কেন? অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা যদি না-ই হয়ে থাকে, তাহলে ময়নাতদন্তের কী প্রয়োজন ছিল?কারণ অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে তবেই ময়নাতদন্ত হয় বলে সকলে জানেন, এমনটাই জানান বিচারপতি পাদরিওয়ালা। তিনি এও বলেন, “৩০ বছরের কেরিয়ারে এমন ঘটনা আমি দেখিনি”।
সলিসিটর জেনারেল জানান, তরুণী চিকিৎসকের দেহ যখন উদ্ধার হয়, সেই সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয় যে অচেতন দেহ উদ্ধার হয়েছে। কীভাবে চিকিৎসকরা এটা বলতে পারেন, তা নিয়ে ওঠে প্রশ্ন। এরপর ১০টা ১০ মিনিটে হাসপাতাল পুলিশকে জানায়, তরুণী চিকিৎসকের অর্ধনগ্ন দেহ উদ্ধার হয়েছে। পরে মেডিক্যাল বোর্ডের তরফে নিশ্চিত করা হয় যে মৃত্যু হয়েছে তরুণী চিকিৎসকের।
এদিন সিবিআই রিপোর্ট দেখে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, সকাল ১০ টা বেজে ১০ মিনিটে দেহ উদ্ধারের ঘটনাটি নথিভুক্ত করা হয়। এরপর সন্ধ্যে ৬ টা ১০ থেকে ৭ টা ১০-এর মধ্যে হয় চিকিৎসকের ময়নাতদন্ত। রাত ১১ ২০ মিনিটে অস্বাভাবিক অভিযোগ দায়ের হয়। আর তারও ২৫ মিনিট পর এফআইআর হয়। ময়নাতদন্তের পর কেন জিডি দায়ের হল? কেন গোটা দিন পেরিয়ে রাত সাড়ে এগারোটায় ঘটনাস্থল সুরক্ষিত করা হল, তা নিয়ে এদিন প্রশ্ন ওঠে আদালতে। এই ঘটনায় কী কিছু চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে? এদিন আদালত রীতিমতো তুলোধোনা করে রাজ্য পুলিশকে।





