ডিজিটাল যুগে (digital age) স্মার্টফোন যতটা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠেছে, ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা। প্রতিদিনের কথোপকথন, ছবি, নথি—সব কিছুই এখন কয়েকটি অ্যাপের মাধ্যমে আদান-প্রদান হয়। কিন্তু সেই তথ্য কোথায় যাচ্ছে, কী ভাবে ব্যবহার হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেই উদ্বেগ বাড়ে সাধারণ মানুষের। ঠিক এই আবহেই দেশের শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এমনই এক মামলার শুনানিতে উঠে আসে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াট্সঅ্যাপের গোপনীয়তা সংক্রান্ত নীতি। আদালতে বিষয়টি ওঠার পরই কড়া মন্তব্য করেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। হোয়াট্সঅ্যাপের নিয়ন্ত্রক সংস্থা মেটার উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে কোনও রকম ‘খেলা’ মেনে নেওয়া হবে না। আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে, তথ্য সুরক্ষার প্রশ্নে কোনও ছাড় দিতে রাজি নয় শীর্ষ আদালত।
শুনানিতে মেটার পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই গোপনীয়তা নীতি তৈরি করা হয়েছে এবং সংস্থার অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রেই তথ্যের আদান-প্রদান সীমাবদ্ধ। তবে এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয় বলেই জানিয়ে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতিরা স্পষ্ট করে বলেন, বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহারকারীদের তথ্য ভাগাভাগি করা কোনও ভাবেই অনুমোদনযোগ্য নয়। আদালত আরও মনে করিয়ে দেয়, ভারতের গোপনীয়তা সংক্রান্ত নীতি ইউরোপ বা অন্যান্য দেশের নিয়মের সঙ্গে এক নয়—এখানে নাগরিকের অধিকারই সর্বাগ্রে।
এই মামলার সূত্রপাত ২০২১ সালের হোয়াট্সঅ্যাপের গোপনীয়তা নীতি ঘিরে। ন্যাশনাল ল ট্রাইবুনালের এক রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যায় হোয়াট্সঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে কেন্দ্রের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান, এই নীতির অপব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যবহারকারীদের তথ্য কী ভাবে বাণিজ্যিক লাভের জন্য কাজে লাগানো হতে পারে, সেই দিকটিও আদালতের নজরে আনা হয়।
আরও পড়ুনঃ Coal Scam : আইপ্যাক মামলার শুনানির মাঝেই চমক—কয়লা পাচার কাণ্ডে ৯ জায়গায় একযোগে ইডির অভিযান!
সব পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মেটার উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, যদি ভারতের সংবিধান ও গোপনীয়তার নীতি মেনে চলা সম্ভব না হয়, তবে এই দেশে ব্যবসা করার অধিকারও নেই। একই সঙ্গে আদালত প্রশ্ন তোলে—হোয়াট্সঅ্যাপের গোপনীয়তার নথি আদৌ কি একজন সাধারণ মানুষ, যিনি আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলেন, তিনি বুঝতে পারবেন? অন্তর্বর্তী নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের কোনও তথ্য মেটার মাধ্যমে প্রকাশ করা যাবে না। ডিজিটাল দুনিয়ায় নাগরিকের অধিকার রক্ষায় এই পর্যবেক্ষণ কতটা দৃষ্টান্তমূলক হয়ে উঠবে, এখন সেটাই দেখার।






