বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত (Sushant Singh Rajput) এর মৃ’ত্যুর পর তাঁর জীবন ও কেরিয়ার ঘিরে একের পর এক তথ্য সামনে আসে। সেই সময়েই উঠে আসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ছবি নিয়ে বিতর্কের কথা, যার নাম ‘পানি’। বহু বছর আগে ঘোষিত এই ছবির পরিচালক ছিলেন বিশিষ্ট নির্মাতা শেখর কপূর (Shekhar Kapur)। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এই ছবির জন্য সুশান্ত কতটা পরিশ্রম করেছিলেন এবং শেষ মুহূর্তে কীভাবে প্রযোজনা সংস্থার সিদ্ধান্তে সবকিছু থেমে যায়। তাঁর কথায়, অভিনেতার সেই পরিশ্রম আজও তাঁর মনে গভীর ছাপ রেখে গেছে।
২০১৪ সালে ‘পানি’ ছবির ঘোষণা করা হয়েছিল। ভবিষ্যতের ভারতকে কেন্দ্র করে ২০৫০ সালের এক কল্পিত প্রেক্ষাপটে তৈরি হয়েছিল ছবির গল্প। সেই সময় থেকেই ছবিটি নিয়ে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছিল দর্শক এবং ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে। ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের কথা ছিল সুশান্ত সিংহ রাজপুতের। শেখর কপূরের কথায়, সুশান্ত চরিত্রটিকে জীবন্ত করে তুলতে প্রায় ছয় মাস ধরে কঠোর প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। চরিত্রের মানসিকতা বোঝা থেকে শুরু করে শারীরিক প্রস্তুতি সবকিছুতেই নিজেকে পুরোপুরি ডুবিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু ঠিক সেই সময়েই হঠাৎ বদলে যায় পরিস্থিতি। শেখর কপূর জানান, একদিন আচমকাই প্রযোজনা সংস্থা সিদ্ধান্ত নেয় যে ছবিতে সুশান্তকে আর রাখা হবে না। সেই ঘোষণার ফলে কার্যত থমকে যায় পুরো প্রকল্প। এতদিনের প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনা এক মুহূর্তে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। পরিচালকের মতে, একজন অভিনেতা যখন একটি চরিত্রের জন্য এতটা সময় এবং পরিশ্রম দেন, তখন এমন সিদ্ধান্ত শুধু হতাশাই তৈরি করে না, বরং পুরো সৃষ্টিশীল প্রক্রিয়াকেই ধাক্কা দেয়।
এই ঘটনার পরেই শেখর কপূর কিছুদিনের জন্য দেশ ছাড়েন। তবে তিনি জানান, ‘পানি’ ছবির স্বপ্ন পুরোপুরি ছাড়েননি তিনি। বরং শুধু এই ছবির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশাতেই তিনি পরে আবার দেশে ফিরে আসেন। কিন্তু নানা কারণে শেষ পর্যন্ত ছবিটির কাজ আর এগোয়নি। ফলে বহু প্রতীক্ষিত সেই প্রকল্প আজও বাস্তবায়িত হয়নি, যদিও সেই স্বপ্নের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল বহু মানুষের পরিশ্রম এবং প্রত্যাশা।
আরও পড়ুনঃ West Bengal politics : “কাল বিজেপি চলে যাবে তখন কোথায় যাবেন, তখন তো আমি ফার্স্ট ট্রান্সফার করব”—ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের! কাকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী?
২০২০ সালের ১৪ জুন মুম্বইয়ের বান্দ্রায় নিজের বাসভবন থেকে উদ্ধার করা হয় সুশান্ত সিংহ রাজপুতের দেহ। সেই সময় শেখর কপূর ছিলেন উত্তরাখণ্ডে। অভিনেতার মৃত্যুর খবর শুনে তিনি গভীরভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে জানান। তাঁর মতে, সুশান্তের মধ্যে অভিনয়ের প্রতি ছিল অসাধারণ আগ্রহ এবং নিষ্ঠা। পরিচালক বলেন, তিনি কখনও অভিনেতার মধ্যে কোনও অস্বাভাবিক আচরণ দেখেননি। হয়তো ব্যক্তিগতভাবে খুব বেশি সময় কাটানোর সুযোগ হয়নি বলেই সুশান্তের ব্যক্তিগত সংগ্রামের কথা তিনি জানতেন না, কিন্তু একজন শিল্পী হিসেবে তাঁর প্রতিভা এবং নিবেদন ছিল সত্যিই অসাধারণ।





