রাজ্যের রাজনীতি আজকাল একেবারেই উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভোটের ময়দানে কে কোন দিকে ঝুঁকছে, তা নিয়ে প্রতিদিনই জল্পনা চলছে। সেই উত্তেজনার মাঝেই ধর্নামঞ্চে দাঁড়িয়ে সরাসরি বক্তব্য রাখলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এমন সময় সরব হলেন, যখন রাজ্যে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারকে নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, “ভোটের অধিকার নিয়ে যারা লুঠ চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা চুপ থাকব না।”
ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আজ একদিকে এনআরসি, একদিকে সিআইআর, সিআরএ, আরেকদিকে সিবিআই, ইডি, এমনকি আর্মি হেডকোয়ার্টারও—সব মিলিয়ে গণতন্ত্রকে চাপের মধ্যে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। কখনো ভাবতে পারিনি এমন পরিস্থিতি দেখা যাবে। আমার কাছে সবকিছু পরিষ্কার, একপক্ষীয় অবস্থান নিয়েছে এখন কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলো।” মমতা আরও বলেন, অনেক জায়গায় বিজেপি-সমর্থিত কার্যক্রমে তাঁদের মঞ্চ ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, এইসব কর্মকাণ্ড কখনোই নিরপেক্ষ হয় না।
তিনি নাম না করেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “যারা আজ এসব করছেন, তাদের রেকর্ড থেকে যাচ্ছে। ভোট চুরি, অধিকার লুণ্ঠন—সবই ঘটছে। কমিশন শুধুই একপক্ষকে সন্তুষ্ট করছে। মানুষের ভোটাধিকারকে তারা ভ্যানিশ করতে চাইছে।” মমতা এই মন্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি একযোগে রাজ্যের গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
মঞ্চ থেকে মমতা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, “আজ বিজেপি আছে, তাই আপনারা নিরাপদ। কাল বিজেপি চলে গেলে তখন কে কোথায় যাবে? আমি সেই সময় প্রথম ট্রান্সফার করব। যারা আজ ভয় দেখাচ্ছে, তারা জানুক যে গণতন্ত্রের রেকর্ড থেকে যায়। স্ট্রোক, রাজনৈতিক চাপ—সব কিছুই মানুষ ভোগ করছে। কিন্তু আমরা চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি, আমরা লড়ব।” তিনি আরও যোগ করেন, “ভারতে এখন একটাই পার্টি, একটাই সরকার। সবকিছু গ্রাস করে নিয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্রের জন্য লড়াই আমরা থামাব না।”
আরও পড়ুনঃ Essential Commodities Act Invoked: গ্যাস সংকটের সতর্কবার্তা! ঘরোয়া এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কেন্দ্র কার্যকর করল অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন!
শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্মতলার মঞ্চ থেকে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় নেতাদের কঠোর ভাষায় চ্যালেঞ্জ জানান। তিনি বলেন, “গুন্ডা নেতৃত্বের দাপট আমাদের ভয় দেখাতে পারবে না। বুথে এজেন্ট নেই, ভোটের অধিকার লুণ্ঠিত হচ্ছে—এতে দাঁড়িয়ে আমরা চুপ থাকব না। গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই চলবে।” এই সরব বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল কেবলই নিরপেক্ষ না থেকে সরাসরি প্রতিক্রিয়াশীল এবং নির্বাচনী লড়াইয়ে চ্যালেঞ্জিং অবস্থান নিতে প্রস্তুত।





