দেশজুড়ে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতী এক ভাইরাস। হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে মানুষ, শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি-কাশির মতো উপসর্গে ভুগছেন অনেকে। প্রথমে সাধারণ ফ্লু বলে মনে হলেও, কিছুদিনের মধ্যেই রোগীদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে অনেককে, কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে উঠছে যে, প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। ভাইরাসের প্রকোপে শুধুমাত্র সাধারণ মানুষই নয়, স্বাস্থ্য কর্মীরাও আক্রান্ত হচ্ছেন, ফলে চাপ বাড়ছে চিকিৎসা পরিষেবার ওপর।
সাধারণ ফ্লু মনে করেই শুরুতে অনেকেই এই ভাইরাসকে উপেক্ষা করেছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে যখন সংক্রমণের মাত্রা বাড়তে থাকে, তখন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। অফিস, স্কুল-কলেজ, বাজার—প্রতিটি জায়গাতেই সংক্রমণের ছাপ পড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এটি কোনও সাধারণ রোগ নয়, বরং এটি মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। বিশেষত শিশু ও প্রবীণরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। ভিড় এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা, কিন্তু উৎসবের মরশুমে, কাজের প্রয়োজনে অথবা দৈনন্দিন জীবনে অনেক ক্ষেত্রেই বাইরে বের হওয়া অনিবার্য হয়ে উঠছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারতে সোয়াইন ফ্লু (H1N1) সংক্রমণের হার হু হু করে বাড়ছে। ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২০,৪১৪ ছাড়িয়েছে, আর মৃতের সংখ্যা ৩৪৭। রাজধানী দিল্লিতেই আক্রান্ত হয়েছেন ৩,১৪১ জন। সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের শিকার রাজ্যগুলির মধ্যে রয়েছে কেরালা (২,৮৪৬), মহারাষ্ট্র (২,০২৭), গুজরাট (১,৭১১), তামিলনাড়ু (১,৭৭৭) এবং রাজস্থান (১,১৪৯)। বিশেষত কেরালা, মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। এই রাজ্যগুলিতেই আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুনঃ অবশেষে সুখবর! অনিন্দিতা-সুদীপের ছোট্ট সংসারে এলো কে? রাজকুমার নাকি রাজকুমারী ?
স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, মহারাষ্ট্রে এখনও পর্যন্ত ৭১ জন, কেরালায় ৬১ জন, গুজরাটে ৫৫ জন, পাঞ্জাবে ৪৮ জন, ছত্তিশগড়ে ৪৩ জন এবং হরিয়ানায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ভাইরাসের ভয়াবহতা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-ও সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থার মতে, বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় ১০০ কোটি মানুষ সোয়াইন ফ্লু-তে আক্রান্ত হন, যার মধ্যে ৩০-৫০ লক্ষ রোগী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রতি বছর ২.৯ লক্ষ থেকে ৬.৫ লক্ষ মানুষের মৃত্যু ঘটে এই রোগে।
চিকিৎসকরা বলছেন, সোয়াইন ফ্লু প্রতিরোধে টিকাকরণ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং দ্রুত চিকিৎসা করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিমধ্যেই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলি এই ভাইরাস মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে। বিশেষত স্কুল-কলেজ ও অফিসে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ, অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত, কারণ দেরি হলে পরিণতি হতে পারে মারাত্মক।






