আর লাখ লাখ টাকা খরচ হবে না মারণ রোগ সারাতে। এবার মাত্র ১০০ টাকার ওষুধেই কমবে ক্যানসার। এমনটাই দাবী টাটা মেমোরিয়াল সেন্টারের গবেষক ও চিকিৎসকদের। টাটা ইনস্টিটিউটের তৈরি ট্যাবলেটের মাধ্যমেই ক্যানসার কোষের বাড়বাড়ন্ত ঠেকানো যাবে বলে দাবী সংস্থার। আর এই ট্যাবলেট মিলবে মাত্র ১০০ টাকাতেই। খুব শীঘ্রই এই ট্যাবলেট বাজারে আসবে বলে জানা গিয়েছে।
কী এই ওষুধ?
এই ওষুধ নিয়ে গবেষণা করছে টাটা মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউটের অনকোলজিস্টদের একটি টিম। প্রবীণ বিজ্ঞানী ডক্টর রাজেন্দ্র বাদভে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, দেশের ফুড সেফটি ও সিকিউরিটি অথরিটির কাছে এই ওষুধ নিয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। সেখান থেকে সবুজ সংকেত মিললেই বাজারে আসবে এই ওষুধ।
এই ট্যাবলেটের নাম আর+সিইউ। এটি রেসভেরাট্রোল ও কপার দিয়ে তৈরি। এই ওষুধ বাজারে এলে ক্যানসারের চিকিৎসার খরচ এক ধাক্কায় অনেকটা কমে যাবে বলে জানা যাচ্ছে।
কীভাবে কাজ করবে এই ট্যাবলেট?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ট্যাবলেট হল একটি প্রিঅক্সিডেন্ট ট্যাবলেট। এই রেসভেরাট্রোল ও কপারের মিশ্রণ যখন শরীরে ঢুকবে, তখন তা ক্রোমাটিন কোষগুলিকে ধ্বংস করতে শুরু করবে। শরীরের রক্তরসের সঙ্গে মিশে তা অক্সিজেন তৈরি করবে। এই অক্সিজেন প্রোটিনই ক্যানসার কোষগুলিকে সমূলে বিনাশ করতে সাহায্য করবে। এর জেরে নতুন ক্যানসারের কোষ তৈরি হবে না। এমনকি, কেমোথেরাপির পর শরীরে যে টক্সিন তৈরি হয়, তাও এই অক্সিজেন র্যাডিকেল নষ্ট করতে পারবে। এর ফলে ক্যানসারের কোষ ফিরে আসতে পারবে না।
কেন বারবার ফিরে আসে ক্যানসারের কোষ?
বিশেষজ্ঞদের কথায়, ক্যানসারের কোষ নির্মূল হয় না। তা ফিরে আসে। এর দুটি কারণ রয়েছে, তা হল- ১) ক্যানসার বা টিউমার কোষ খুব দ্রুত বিভাজিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এই কোষের বিভাজন চলতেই থাকে। ২) কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি দিয়ে ক্যানসার কোষ পুড়িয়ে দিলেও তার অবশিষ্টাংশ থেকে নতুন করে কিছু ফ্রি রেডিক্যালস বের হতে থাকে।
এই রেডিক্যালকে বলা হয় ক্রোমাটিন। মৃতপ্রায় ক্যানসারের কোষের ক্রোমোজোম থেকে বের হয় এই ক্রোমাটিন। এই ক্রোমাটিন আশেপাশের সুস্থ কোষগুলিকেও বিষাক্ত করে দেয়। কেমোর মাধ্যমে রেডিও তরঙ্গ দিয়ে কোষ নষ্ট করা হলেও বারবার ক্যানসারের কোষ গজিয়ে ওঠে। এই কারণে বারবার কেমোথেরাপি দেওয়ার দরকার পড়ে।





