বাঁধ নির্মাণ দায়ী নয়! আরও বড় বিপর্যয়ের হাত থেকে উত্তরাখণ্ডকে রক্ষা করল তেহরি বাঁধই, মত বিশেষজ্ঞদের

গতকাল, রবিবার সকালটা উত্তরাখণ্ডের জন্য ছিল এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের মতো। চামোলি হিমবাহ ভেঙে ধৌলিগঙ্গার জল ফুলে উঠে ভেসে যায় তপোবন অঞ্চলের রেইনি গ্রাম এলাকা। মেঘভাঙা বৃষ্টির ফলে বন্যা প্লাবন হয়েছে যার ফলে রেইনি গ্রামের কাছের নদীপাড়ের বাড়িগুলি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। এর জেরে প্রাণ হারিয়েছেন ১৫০-এরও বেশি মানুষ। এদের মধ্যে রয়েছেন বাঁধের কাজে নিযুক্ত থাকা প্রচুর শ্রমিকও। এখনও প্রচুর মানুষ আটকে এই পরিস্থিতিতে। চলছে উদ্ধারকাজ।

যখন একদিকে নিখোঁজ হওয়া শ্রমিক ও গ্রামবাসীদের উদ্ধারের কাজ চলছে, তখন অন্যদিকে আরামকেদারাতে বসে থাকা পরিবেশকর্মীরা উত্তরাখণ্ডের এই পরিস্থিতির কারণে সরকারকে দোষারোপ করছেন। কিছু স্বঘোষিত পরিবেশবিদের মতে, এই অঞ্চলে অত্যধিক পরিমাণে বাঁধ নির্মাণই উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার এই অবস্থার কারণ। নানান বামপন্থী সমাজকর্মী এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য সরকারকেই দোষী ঠাওরাচ্ছেন।

বলিউড অভিনেত্রী দিয়া মির্জা, যিনি কি না প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সম্বন্ধে আদৌ অবগত নন, তিনিও টুইটারে এই দুর্যোগের কারণ হিসেবে বাঁধকেই দায়ী করেছেন। তিনি লেখেন, “হিমালয় অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে বাঁধ নির্মাণের কারণেই এই অবস্থা হয়েছে”।

শুধু দিয়া মির্জাই নন, অন্যান্য বামপন্থী ও কংগ্রেস সমর্থক স্বঘোষিত ‘পরিবেশবিদরা’ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য বাঁধ নির্মাণকেই দোষী বলেছেন। তবে আসল কথা হল, তপোবন অঞ্চলের চামোলি এলাকার এই দুর্যোগ শুধুমাত্র হিমবাহ ভেঙে পড়ার ফলেই ঘটেছে। এই কারণেই ধৌলিগঙ্গায় জলের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে প্রচুর বিদ্যুৎ প্রকল্প ও ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়।

উত্তরাখণ্ড সরকারের পক্ষ থেকে বন্যা ব্যবস্থাপনার কাজ দ্রুত শুরু না করলে এই পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হত। এই বাঁধই আরও বড় কোনও ক্ষতিসাধনের হাত থকে রাজ্যকে রক্ষা করেছে। তাঁরা যখনই বুঝতে পারেন যে এই বন্যার জল আরও নিচের দিকে গিয়ে প্রবল ক্ষতি করবে, তখনই বিভিন্ন বড় বড় বাঁধ বিশেষত তেহরি বাঁধের জল আটকে দেওয়া হয়। এর জেরে আরও বেশি জল প্লাবন আটকানো সম্ভব হয়েছে।

ঋষিগঙ্গার উপরে নির্মীয়মাণ বাঁধের প্রভূতও ক্ষতি হয়েছে। এই কারণে ঋষিগঙ্গার বাড়তি জল অলকানন্দাতে চলে আসার প্রবল সম্ভাবনা থাকে যার কারণে বন্যার পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিত। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে তেহরি বাঁধের জল বন্ধ করে দেওয়া হোক, এর জেরে ঋষিগঙ্গার জল অলকানন্দাতে মিশলেও, বন্যার ভয়াবহতা হ্রাস পেয়েছে।

এই কারণে দিয়া মির্জা বা অন্যান্য ‘পরিবেশবিদের’ আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ভালো করে বুঝে তারপর কোনও মন্তব্য করা উচিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

RELATED Articles