Pahalgam Terror Attack : মাস আগেও ছিল পাকিস্তানে, তারপরই পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ হামলা! নেপথ্যে কাদের ষড়যন্ত্র?

শীতের শেষে পাহাড়ি উপত্যকায় যখন পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে, ঠিক তখনই নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল কাশ্মীরের পহেলগাঁও এলাকায়। চরম হিংসার এই ঘটনায় আবারও সামনে এল পুরনো এক ভয়—জঙ্গি আক্রমণ! যাত্রী বোঝাই বাসে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছে, সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন বহু। এমন সময়ে একটাই প্রশ্ন—এই উপত্যকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আদৌ কতটা সুরক্ষিত?

পরিবার, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ধর্মীয় তীর্থে যাচ্ছিলেন অনেকেই। হাতে ছিল প্রসাদের থলি, মুখে ছিল ভক্তিভাব—কিন্তু সেই বিশ্বাসকেই ভেঙে চুরমার করে দিল এক বেপরোয়া জঙ্গি হামলা। স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে বাইরের রাজ্যের মানুষজন—সবারই মনের মধ্যে এখন ভয় আর ক্ষোভ। প্রশ্ন উঠছে, হিন্দু তীর্থযাত্রী বলেই কি এভাবে নিশানা করা হল? ধর্মীয় পরিচয় দেখেই কি চলল গুলি? কে এই হামলার পরিকল্পনাকারী?

তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর নাম—সাইফুল্লা কাসুরি ওরফে খালিদ। পাকিস্তানভিত্তিক কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ বা টিআরএফ-এর অন্যতম সক্রিয় সদস্য সে। নিরাপত্তা সূত্রে খবর, কিছুদিন আগেই সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করে খালিদ। স্থানীয় যুবকদের মগজ ধোলাই করে জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত করার কাজে সে সিদ্ধহস্ত। তবে শুধু পরিকল্পনা নয়, হামলার ময়দানে সে নিজেও উপস্থিত ছিল বলে মনে করছে তদন্তকারী সংস্থা। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, কারণ হামলার আসল উদ্দেশ্য আরও গভীরে লুকিয়ে।

খালিদের পরিকল্পনা ছিল মূলত হিন্দু তীর্থযাত্রীদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো। ধর্মীয় পরিচয় দেখে নিরীহ মানুষদের উপর গুলি চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা বিভাগ। পবিত্র যাত্রাপথকে রক্তাক্ত করে কাশ্মীরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে আঘাত হানাই ছিল আসল উদ্দেশ্য। এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে সাজানো একটি ষড়যন্ত্র। খালিদ নিজে পাকিস্তানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং বহুদিন ধরেই কাশ্মীরে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।

আরও পড়ুনঃ Narendra Modi : কাশ্মীর হামলার পরই সৌদি ফেরত মোদীর বিমানের পথে বদল! আকাশেই কি পাঠানো হয়েছিল বার্তা?

এই ঘটনার পর খালিদ ও তার সহযোগীদের ধরতে শুরু হয়েছে তল্লাশি। একাধিক এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। পাকিস্তানের মদতে কাশ্মীরে যে ফের অশান্তির বাতাবরণ তৈরি করা হচ্ছে, তা এখন স্পষ্ট। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, খালিদের মতো জঙ্গিরা শুধু অস্ত্র নয়, তথ্য-প্রযুক্তির সাহায্যে যোগাযোগ রক্ষা করছে সীমান্তের ওপারেও। ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার, কত দ্রুত এই মাস্টারমাইন্ডকে পাকড়াও করা যায়।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর