কেরলের বাসিন্দা অ্যানা সেবাস্টিয়ান পেরাইল (Ana Sebastián Perrail)। ২০২৩ সালে সি.এ (C.A) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় সে। এরপর কর্মসূত্রে যেতে হয় মহারাষ্ট্রের পুনেতে। মাত্র চার মাস আগেই পুনের আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং কনসালট্যান্ট ফার্মে (Ernst & Young consultant firm) যোগ দেন। এর মধ্যেই অফিসের কাজের মারাত্মক চাপ সামলাতে না পেরে মৃত্যু ঘটেছে তার মেয়ের এমনটাই দাবী জানিয়েছেন তার মা। মাত্রাতিরিক্ত কাজের চাপ সহ্য না করতে পেরে মৃত্যু হয়েছে তার ২৬ বছর বয়সী মেয়ের, এমন অভিযোগে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
ওই তরুণীর মা মেয়ের মৃত্যুর পর সংস্থার মালিক রাজীব মেনানিকে গুরুতর অভিযোগ জানিয়ে একটি ই-মেল করেছেন। সেই ইমেলে মহিলার বক্তব্য অতিরিক্ত কাজ দেওয়া হচ্ছিল তার মেয়েকে। এই নিয়ে প্রত্যেকদিন তার মেয়ের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা তৈরী হচ্ছিল। মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে বলেও বক্তব্য তরুণীর মায়ের।
ওই তরুণীর মা ইমেলে উল্লেখ করেছেন যে কাজের চাপে দিনরাত উদ্বেগ, দুশ্চিন্তায় ভুগতেন অ্যানা। রাতে ঘুমাতে পারতেন না এক ফোঁটাও। মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেছেন তরুণীর মা। তরুনীর মা জানিয়েছেন প্রচন্ড পরিশ্রমী ছিলেন তার মেয়ে। নিজের সাধ্যের বাইরে গিয়ে কাজ করতেন সংস্থার জন্য। তবে শেষ অব্দি মাত্রাতিরিক্ত কাজের চাপ সহ্য করতে পারলেন না আর।
ওই তরুণীর মা অনিতা অগাস্টিন জানান, “কাজের চাপ সামলাতে না পেরে অনেক কর্মীই ওই ফার্ম ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু অ্যানার বস ওকে বলেছিল, আরও পরিশ্রম করে দেখিয়ে দিতে। সকলকে ভুল প্রমাণ করে দিতে। ক্রিকেট ম্যাচের সময় মিটিং ফেলতেন ওঁর বস। অনেক রাতেও অতিরিক্ত কাজ দিয়ে দিতেন। এতে ওঁর স্ট্রেস ক্রমশ বাড়ছিল। একবার একটি অফিস পার্টিতে জনৈক কর্মী মজার ছলেই বলেছিলেন, কী ভাবে ওঁর বস অতিরিক্ত খাটাচ্ছেন। সেটাই পরে বাস্তবে পরিণত হল”।
ওই সংস্থার হয়ে কাজ করতে করতে নিজের মেয়ের কি অবস্থা হয়েছিল সেই বিষয়ে তরুণীর মা বলেন, “গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হতো অ্যানাকে। মেয়ের এমন অবস্থা হত, অফিসের পরে বাড়িতে ফিরে পোশাক বদলের শক্তিটুকুও আর থাকত না। এমনকী, উইকএন্ডেও কাজ দেওয়া হত ওকে। অফিসিয়াল ডিউটি ছাড়াও মৌখিকভাবে ওকে অন্য কাজ করতে বলা হত। আমি অনেকবার বারণ করেছি ওকে অতিরিক্ত চাপ নিতে। ওর বিশ্রামের সময়ই ছিল না”।
এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে ও কর্পোরেট সংস্থাগুলোকে ওয়ার্ক কালচার নিয়ে ভেবে দেখার বার্তা দিয়ে শিবসেনা নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘আমি ভারাক্রান্ত। অ্যানার এটা প্রাপ্য ছিল না। ওর মায়ের হৃদয় বিদারক ইমেল কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে ভাবতে বাধ্য করবে। মানসিক স্বাস্থ্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আমাদের বুঝতেই হবে। ছাত্র জীবন থেকে সদ্য কর্মজগতে পা রাখছেন তারা। ফলে সংস্থাগুলিকে আরও মানবিক হতে হবে”।





