কোনও হিন্দু দেব-দেবীর মন্দির নয়! ভিনগ্রহী দেবতার মন্দির রয়েছে এই ভারতেই, জানতেন কী?

কুচকুচে কালো রঙের দেহ, ছোটখাট গড়ন, কিন্তু মাথার আকার বিশাল। মাথার উপরিভাগ স্ফিত এবং নীচের চোয়াল সরু। মুখে তাকালেই প্রথমে নজরে পড়ে দুটো বিশাল চোখ। মানুষের মতো নাক এবং মুখ রয়েছে, আর হাত-পাও আছে। দেখতে অনেকটা মানুষের মতো হলেও, পুরোপুরি মানুষ বলা যায় না। গলায় ঝুলছে মালা। মন্দিরে প্রবেশ করে এই বিগ্রহটি দেখলে যে কারো চোখ কপালে উঠবে।

এ কেমন দেবতা? এ এই প্রশ্ন জাগতে পারে ভক্তদের মধ্যে। কারণ, হিন্দু ধর্মের পরিচিত কিংবা অল্প পরিচিত কোনো দেবতার সঙ্গেই এই বিগ্রহের মিল নেই। আসলে, এটি ভারতের প্রথম ‘ভিনগ্রহী দেবতার মন্দির। সম্প্রতি এক পুরোহিত এই মন্দিরটি নির্মাণ করেছেন।

এই মন্দির কোথায় নির্মিত হয়েছে?

তামিলনাড়ু রাজ্যের সালেম জেলার মল্লমুপট্টি গ্রামে কালিয়া শিব মন্দিরের চত্বরেই এই অদ্ভূত দেবতার ভূগর্ভস্থ মন্দির তৈরি করা হয়েছে। এই মন্দির নির্মাণ করেছেন পুরোহিত লোগানাথন, যিনি সিদ্ধর ভাকিয়া নামেই বেশি পরিচিত। তিনিই এই মন্দিরে বিশেষ পূজা শুরু করেছেন।

Temple, Tamilnadu, Alien, ভিনগ্রহী, মন্দির, পুরোহিত

এত দেবতা থাকতে হঠাৎ কেন ভিনগ্রহী দেবতার মন্দির নির্মাণ করলেন? এ ভাবনা তার মাথায় কোথা থেকে এল! স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে সিদ্ধর ভাকিয়া জানিয়েছেন, ভগবান শিবের সৃষ্টির মধ্যে ভিনগ্রহীরা ছিল প্রথম। শুধু তাই নয়, তার মতে, “ভিনগ্রহীরাই একমাত্র দেবতা যারা বিশ্বকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে, কারণ তাদের ক্ষমতা সীমাহীন।”

পুরোহিত আরও দাবি করেছেন, তার সঙ্গে ভিনগ্রহীদের কথাবার্তা হয়েছে। তাদের অনুমতি পাওয়ার পরই তিনি এই মন্দিরটি তৈরি করেছেন। লোগানাথন বলেছেন, “ভিনগ্রহীরা পৃথিবীর কোনো ক্ষতি করবে না। তারা মানুষের কোনো ক্ষতি করবে না। তারা আমাদের ভালো করার জন্যই খোঁজ করে। এই কারণেই আমি এই মন্দিরটি তৈরি করেছি।” তিনি আরও দাবি করেন, এখন থেকে পৃথিবীতে আরও ঘন ঘন ভিনগ্রহীদের আগমন ঘটবে। কারণ, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভিনগ্রহীদের খোঁজ করছে। কিন্তু তারা অনুসন্ধানের ফলাফলগুলি গোপন রাখে বলে লোগানাথন দাবি করেন। তিনি বলেছেন, “ভিনগ্রহীরা ব্যক্তিগতভাবে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। তারা ইতিমধ্যেই পৃথিবী ঘুরে গিয়েছে।”

Temple, Tamilnadu, Alien, ভিনগ্রহী, মন্দির, পুরোহিত

লোগানাথনের দাবি অনুযায়ী, সিনেমায় যেভাবে ভিনগ্রহীদের দেখানো হয়, বাস্তবে তারা সেই রকম দেখতে নয়। সিনেমায় ভিনগ্রহীদের শিং দেখানো হয়, কিন্তু তাদের মাথায় শিং থাকে না বলেই তিনি দাবি করেন। তিনি বলেছেন, “তাদের চেহারা মানুষের মতোই স্বাভাবিক। মানুষের মতো তাদের মধ্যেও নারী ও পুরুষ ভেদ আছে। ভিনগ্রহীরা দুবার এসে আমার সঙ্গে কথা বলেছে। আমি ভিনগ্রহীদের সঙ্গে কথা বলেছি বলে, কেউ আমায় পাগল ভাববেন না। অনেকেই ভিনগ্রহীদের নিয়ে গবেষণা করছেন। তারাও এই সম্পর্কে অনেক কিছু বলে, কিন্তু কেউ তা বিশ্বাস করে না।”

RELATED Articles