সারারাত দুঃস্বপ্ন, কোনওমতেই ঘুম হচ্ছিল না। ঘুম উড়ে গিয়েছিল তাদের। অষ্টধাতুর দেবমূর্তি চুরির পর থেকেই নানান ভয় ঘিরে ধরছিল তাদের। ক্রমেই অসুস্থ হয়ে পড়ছিল তারা। এই কারণে শেষ পর্যন্ত চুরি করা মূর্তি ফিরিয়ে দিল চোরের দল।
ঘটনাটি ঘটেছে গত রবিবার রাতে। পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৯ই মে উত্তরপ্রদেশের চিত্রকূটের বালাজি মন্দির থেকে চুরি যায় মোট ১৬টি অতি দুর্মূল্য অষ্টধাতুর দেবমূর্তি। তবে গত রবিবার রাতে মন্দিরের প্রধান পুরোহিতের বাড়ির কাছে একটি বস্তায় চুরি যাওয়া মূর্তির মধ্যে ১৪টি মূর্তি পাওয়া যায়। এরই সঙ্গে ছিল একটি চিঠিও।
সেই চিঠিতে চোরের দল লিখেছে যে এই মূর্তিগুলি চুরি করার পর থেকেই রাতে তারা ঘুমোতে পারত না। সারারাত দুঃস্বপ্ন দেখত তারা। একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ছিল তারা। অভিশাপের ভয়েই তাই চুরি করা মূর্তিগুলি তারা ফিরিয়ে দিয়েছে বলে চিঠিতে জানায়।
এই ঘটনায় করভির সদর কোতোয়ালির এসএইচও রাজীব কুমার সিং জানান যে চুরি যাওয়া মূর্তিগুলির আনুমানিক মূল্য কয়েক কোটি টাকা। তাঁর কথায়, “তারাউনহার প্রাচীন বালাজি মন্দির থেকে ষোলটি অষ্টধাতু মূর্তি চুরি গিয়েছিল। পুরোহিত মোহান্ত রামবালক এই বিষয়ে অজ্ঞাত পরিচয় চোরদের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করেছিলেন”।
তিনি জানান, গত রবিবার রাতে মানিকপুর জওহরনগরে মোহান্তর বাড়ির কাছেই বস্তায় ভরা অবস্থায় চুরি যাওয়া মূর্তিগুলির মধ্যে ১৪টি পাওয়া যায়। মোহান্ত রামবালক বস্তার পাশে একটি চিঠি পেয়েছিলেন। তিনি মূর্তিগুলি থানায় নিয়ে আসেন। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চার ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এই তদন্ত চলছে।
সূত্রের খবর, প্রতিটি মূর্তিই প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। এর মধ্যে ৯টি ছিল অষ্টধাতুর মূর্তি, তিনটি তামার এবং বাকি চারটি ছিল পিতলের। মূর্তিগুলির মধ্যে ছয়টি ছিল শালগ্রাম শিলা, ছয়টি মূর্তি রাধাকৃষ্ণের এবং বাকি চারটি মূর্তি ছিল অন্যান্য দেব-দেবীর। প্রতিটি মূর্তির গায়েই ছিল রুপোর অলঙ্কার ছিল বলেও জানা যাচ্ছে।





