দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে গতকাল উত্তর প্রদেশের অযোধ্যার রাম মন্দিরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন হয়েছে। এই ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন কে ঘিরে ইতিমধ্যেই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। এক পক্ষের দাবি দেশে এই সময় করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ সেখানে এত টাকা খরচ করে এই উৎসব এখনই করার কি খুব প্রয়োজন ছিল? অপর পক্ষের দাবি সমস্ত রকম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েই এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যাপারে যে জট ছিল তা গতকাল কেটে গিয়েছে। এছাড়াও হিন্দু বনাম মুসলিম দ্বন্দ্ব তো রয়েছেই।
প্রখ্যাত সাংবাদিক রাজদীপ সরদেশাই এবার এই ব্যাপারে মুখ খুললেন। তিনি বললেন যে এই মন্দির নির্মাণ নিয়ে উৎসব বন্ধ হোক। এখন উৎসবের সময় নয়, এখন আমাদের খতিয়ে দেখার সময়। হিন্দু এবং মুসলমান দুই জাতির মধ্যে বিশ্বাস তখনই স্থাপিত হবে যখন বাবরি মসজিদ কোন হিন্দুরা ধ্বংস করেছিল সেটা খুঁজে বার করে দোষীদের কে আটক করা হবে। মন্দির বানানো হবে সেটা ঠিক আছে কিন্তু ভারতবর্ষকে ধর্মনিরপেক্ষ ও ঐক্যবদ্ধ ভারত বর্ষ বানানোর দায়িত্ব কে নেবে? প্রশ্ন তুলেছেন রাজদীপ।
https://twitter.com/sardesairajdeep/status/1290859481128153088?s=20
যদিও স্বাভাবিকভাবেই তার মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছেন গেরুয়া পন্থীরা। তাঁদের দাবি,বেশকিছু সংবাদ মাধ্যমের হিন্দুদের একতা ভাঙার চেষ্টা করছে যার মধ্যে সাংবাদিক রাজদীপ সরদেশাই এর চ্যানেল অন্যতম। এমন সংবাদ মাধ্যম দেশে রামের সঙ্গে নানা জাতির সম্পর্ক না থাকার দাবি করছে।
তাদের আরও দাবি যে শুধু নির্দিষ্ট কিছু সংবাদ মাধ্যম নয় এমনকি বিরোধী দল কংগ্রেসও এই কাজে নেমে পড়েছে। মুখে তারা যতই রাম মন্দির স্থাপন নিয়ে উৎসাহ দেখাক না কেন পিছনে তারা এর বিরোধিতা করছে দাবি বিজেপির।
এই প্রসঙ্গে তারা কংগ্রেস নেতা নিশান্ত ভার্মার বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তাঁদের দাবি, এই শুভ সময়ে নিশান্ত ভার্মা নিজের আক্রোশ প্ৰকাশ করেছেন। উনি বলেছেন, “এ হিন্দুরা তোমাদের হিন্দু ধর্ম কোনো ধর্ম নয়। এবার বলো তোমরা কোন ধর্ম থেকে? ভারতের সবথেকে বড়ো ধর্ম ইসলাম। তোমরা কতদিন এই নোংরামি চালাবে?”





