৫০০ বছরের প্রথা ভেঙে হলোনা পশুবলি। নয়া নজির।

অবশেষে যুগ বদলের পালা। ধর্মের নামে নিরীহ পশুদের বলি দেওয়ার মতো নৃশংস প্রথায় অবশেষে এই প্রথম ইতি টানলো উত্তর পূর্ব ভারতের রাজ্য ত্রিপুরা। হিন্দু এবং মুসলমান উভয় ধর্মেরই বিভিন্ন ধার্মীক অনুষ্ঠানে নৃশংস পশুবলি হয়ে থাকে। এর প্রথার বিরুদ্ধে এখনও অবধি গোটা দেশ জুড়ে তেমন আইন প্রচলন হয়নি। কিন্তু ত্রিপুরা এবারে এই আইন-ই করে দেখালো। আর তার ফলে ৫০০ বছরের পুরনো প্রথা ভেঙে ত্রিপুরার ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরে বন্ধ হলো পশুবলি।

আর প্রতিটি প্রাণীর মতোই খাদ্য শৃঙ্খলে বাঁধা পরে আছি আমরাও। প্রকৃতির নিয়মেই এক জীব অন্য জীবকে আহার করে জীবন ধারণ। আমরাও তার ব্যতিক্রম নই। কিন্তু খাদ্য শৃঙ্খলের বাইরে স্রেফ ধর্মের নামে এক নিরীহ পশুকে বলি দেওয়া নৃশংসই নয়, তা অপরাধও। নানান সময়ই এই বিষয়ে নানান ভাবে সোচ্চার হয়ে এসেছে পুশুপ্রেমী সংগঠনগুলো। তবে সেভাবে মানুষের মধ্যে এই বিষয়ে সচেতনতা এখনও হয়নি৷ পশুবলি বন্ধের কথায় উল্টে অনেক ভক্তরাই বিরক্তি প্রকাশ করে থাকেন।

ত্রিপুরাতেও তাই। তবে ত্রিপুরা হাইকোর্টের প্রয়াসে অবশেষে এই বছর ৫০০ বছরের প্রথা ভেঙে আর পশুবলি হয়নি ত্রিপুরেশ্বরীর মন্দিরে। এমনকি বলি হয়নি অন্যান্য মন্দিরগুলোতেও। যা নিঃসন্দেহে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। প্রসঙ্গত, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ত্রিপুরা হাইকোর্টের তরফে এক ঐতিহাসিক রায় দিয়ে জানানো হয়েছিল যে, এবছর থেকেই ত্রিপুরার সমস্ত ধর্মীয় স্থানে পশুবলি নিষিদ্ধ।

হাইকোর্টের এই রায়ে অবশ্য অনেক ভক্তরাই অসন্তুষ্ট। তাদের কথায় এই নৃশংস প্রথা বন্ধ করলে নাকী ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগবে। এই রায়ের বিরোধীতায় অনেকেই নেমে আসায় ত্রিপুরা সরকারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাবে৷ তবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারের পূর্ব পর্যন্ত বহাল থাকবে হাইকোর্টেরই নির্দেশ। যার দরুণ ৫০০ বছরের প্রথা ভেঙে এবারে পশুবলি থেকে বিরত থাকলেন ত্রিপুরেশ্বরীর ভক্তরা।

RELATED Articles

Leave a Comment