এসপির কাছে নালিশ জানাতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানেই হেনস্থার শিকার হলেন তৃণমূল প্রার্থী। জেলাশাসকের অফিসে ঢুকতে দেওয়া তো দূর, তৃণমূল প্রার্থীকে চ্যাংদোলা করে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠল।
ত্রিপুরা আগরতলার পুরনিগমের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী পান্না দেব অভিযোগ তোলেন যে তাদের প্রচারে নাকি পুলিশ বাধা দিচ্ছে। তৃণমূল প্রার্থীর অভিযোগ শাসক দলের কর্মীরা তাদের প্রচার করতে দিচ্ছে না। তৃণমূলের পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে।
এমন নানান অভিযোগ নিয়ে তিনি আগরতলার পুলিশ সুপারের কাছে যান। এর আগে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে জানিয়ে কোনও লাভ হয়নি। আর এবার পুলিশ সুপারের অফিসে গিয়ে হেনস্থা হতে হল পান্না দেবকে। তাঁর অভিযোগ তো নেওয়াই হয় নি, উল্টে তাঁকে চ্যাংদোলা করে অফিস থেকে বের করে দেয় পুলিশ।
তৃণমূল প্রার্থী জানান যে প্রথমে তাঁকে এসপির অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর তিনি যে গাড়িতে করে এসপির অফিসে গিয়েছিলেন, সেই গাড়িতেই তাঁকে রওনা করিয়ে দেওয়া হয়। তৃণমূলের তরফে বারবার অভিযোগ করা হচ্ছে যে ত্রিপুরায় তাদের প্রচার করতে দেওয়া হচ্ছে না।
গত শুক্রবার বিজেপি বিধায়ক সুরজিৎ দত্ত বলেন, “তৃণমূলকে কোনও ভাবেই জমি ছাড়া যাবে না। আমাদের এখানে রাজত্ব করতে হবে। কাউকে কোনও ভাবে রেয়াত নয়। হাজার হাজার ভোট গিয়ে ভোটবাক্স ভরাতে হবে। আমি তোমাদের জন্য কাজ করি। তোমাদেরও আমাকে লিড দিতে হবে। কাউকে ছাড়বে না। তৃণমূল প্রার্থীকে যেখানে দেখবে সেখানেই তাড়া করবে”। সুরজিতের এমন হুমকির পর এবার পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযাগ উঠল ত্রিপুরায়।
ত্রিপুরার এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূল নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্য়ায় বলেন, “ত্রিপুরা শুধু নয় গোটা দেশ দেখছে বিজেপি শাসিত ত্রিপুরায় গণতন্ত্রের কী অবস্থা! একটি অগণতান্ত্রিক সরকার ওখানে চলছে। একটি পুর নির্বাচনে সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করেছে এমন নজির নেই। সুপ্রিম কোর্ট বলে দিয়েছে প্রত্যেক প্রার্থীকে প্রচার করতে দিতে হবে। ডিজিকে বলা হয়েছে প্রত্যেক প্রার্থী টিকঠাক প্রচার করতে পারছে কিনা জানাও। তাদের সুরক্ষা দিতে হবে”।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রার্থীকে মারধর করা হচ্ছে , ফ্ল্যাগ ফেস্টুন জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রার্থী-কর্মী-সমর্থকরা আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রশাসনের কাছ সাহায্যের জন্য গেলে তাঁকে চ্য়াংদোলা করে বের করে দেওয়া হ্চছে। এর থেকে দুর্ভাগ্যের কী হতে পারে। মানুষ দেখতে পাচ্ছে একটা স্বৈরাচারী সরকার চলছে ত্রিপুরায়”।





