এই বিপুল পরিমান জনসংখ্যার দেশে যে পরিমাণে টিকা উৎপাদন করা হচ্ছে তাতে ভারতবর্ষের অর্ধেকেরও অনেক কম মানুষ এখনও পর্যন্ত টিকা পেয়েছেন বা ভবিষ্যতে পাবেন। কিন্তু উৎপাদনকে দেখে তো আর মহামারী বসে থাকবে না। নাগাড়ে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে সেও। এই অবস্থায় টিকা উৎপাদনকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনীতিতে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। গোটা দেশজুড়ে করোনার মোকাবিলা করতে ব্যর্থ মোদী সরকার দেশবাসীর চরম রোষানলে পড়েছে l
বর্তমান পরিস্থিতিকে মাথায় রেখে কেনও দেশে টিকার উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে না, এই নিত্য প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।
আরও পড়ুন:মুসলিম দেশ থেকে নিপীড়িত হয়ে আসা সংখ্যালঘু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করল মোদী সরকার
তার পরিপ্রেক্ষিতেই শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে রাতারাতি টিকা উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয়। উৎপাদন যদি বাড়ানোও হয় তাহলেও এই বিপুল চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে না।
বিরোধীদের জবাব দিতে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, “প্রতিষেধক এমন একটি জৈবিক পণ্য, যা চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। গুণমান পরীক্ষা করে, সমস্ত দিক পর্যালোচনা করে টিকা উৎপাদনে সময় লাগে। উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়, যাতে উৎপাদিত প্রতিষেধকটি প্রয়োগের জন্য সম্পূর্ণ সুরক্ষিত হয়। রাতারাতি টিকা উৎপাদন বাড়িয়ে দেওয়া যায় না।”
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য গতবছর করোনাকালীন সময় থেকেই মোদী সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার নিশানা করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের জন্য মোদী সরকারকেই দায়ী করেন তিনি। নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করে তিনি বলেন, “মোদী সরকারের করোনা সংক্রমণ সম্পর্কে কোনও ধারণাই নেই। সেই কারণেই দেশে ফের একবার সংক্রমণের ঢেউ আছড়ে পড়েছে। টিকাকরণ নিয়েও কেন্দ্রের নির্দিষ্ট কোনও পরিকল্পনা নেই। এই গতিতে টিকাকরণ চললে আরও তিনবছর লেগে যাবে দেশের সকল নাগরিককে করোনা টিকা দিতে।”
আরও পড়ুন:আমেরিকার বিপদে ভারতের সাহায্য ভুলব না! ধন্যবাদ জানালেন জয়শঙ্করও
রাহুল গান্ধীর এই আক্রমণের জবাবে মুখ খোলেন কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী প্রকাশ জাভাড়েকর। তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের সমস্ত মানুষকে করোনা টিকা দেওয়া হবে। এরপরই রাহুল গাঁধীকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, রাহুলজির যদি এতই চিন্তা থাকে, তবে উনি কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলির দিকে মন দিন। ওই সব রাজ্যে টিকাকরণ সঠিক প্রক্রিয়ায় হচ্ছে না।”





