পশ্চিমবঙ্গে সকাল থেকেই রক্তাক্ত ভোটযুদ্ধ, অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশে নির্বিঘ্নে পালিত হচ্ছে ভোট উৎসব! তফাৎটা নিজের চোখেই দেখে নিন এবার

আজ দুই রাজ্যে চলছে ভোট। একদিকে বাংলায় চলছে ১০৮টি আসনে পুরভোট আর অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশে চলছে বিধানসভা নির্বাচন। পঞ্চম দফার ভোট রয়েছে সে রাজ্যে। এই দফায় ভোট হচ্ছে উত্তরপ্রদেশের আমেঠি, রায়বরেলি, অযোধ্যা, সুলতানপুর, চিত্রকূট, প্রতাপগড়, কৌশাম্বি, প্রয়াগরাজ, বারাবাঙ্কি, বাহরাইচ, শ্রাবস্তি এবং গোন্ডা জেলায়।

এই পঞ্চম দফায় বেশ হেভিওয়েটদের লড়াই চলছে উত্তরপ্রদেশে। উত্তরপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য, যিনি কৌশাম্বি জেলার সিরাথু বিধানসভা আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই লড়াইয়ে যোগী আদিত্যনাথের অন্য মন্ত্রীরা হলেন এলাহাবাদ পশ্চিম থেকে সিদ্ধার্থ নাথ সিং, পাট্টি থেকে রাজেন্দ্র সিং ওরফে মতি সিং, এলাহাবাদ দক্ষিণ থেকে নন্দ গোপাল গুপ্ত নন্দী এবং মানকাপুর থেকে রমাপতি শাস্ত্রী।

একদিকে উত্তরপ্রদেশে একাধিক জেলায় যখন মোটের উপর বেশ শান্তিপূর্ণ ভাবেই ভোট চলছে, সেভাবে কোনও সন্ত্রাসের খবর এখনও পর্যন্ত শোনা যায়নি, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে খোদ বাংলার পুরভোটের জেরে পরিস্থিতি সরগরম।

এদিন ভোট শুরু হওয়ার পর থেকেই একের পর এক অভিযোগ আসতে থাকে রাজ্যের নানান ভোটগ্রহণ কেন্দ্র থেকে। কোথাও প্রার্থীকে বুথে ঢুকতে বাধা, তো কোথাও আবার প্রার্থীকে মারধর ও তো কোথাও আবার ভুয়ো ভোটার দিয়ে ছাপ্পা ভোট করানোর ঘটনা। এমন নানান ঘটনায় উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি।

বাংলার শাসকদলের বিরুদ্ধে ছাপ্পা ভোট, বিরোধী দলের প্রার্থীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই-ই নয়, বাংলার পুরভোটে আক্রান্ত হয়েছেন একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও। নির্বাচনী খবর কভার করতে গেলে মারধর করা হয় একাধিক সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিকদের। আর এই ঘটনায় সম্পূর্ণ নির্বাক রাজ্যের পুলিশ। এমনকি, রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফেও এই নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের থেকেও পরিস্থিতি ভয়াবহ বাংলায়।

এই দুই রাজ্যের ভোটের পরিস্থিতি বিচার করলেই দেখা যায় যে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনের সত্যিই বেহাল অবস্থা। বিরোধীদের তরফে বাংলার প্রশাসন নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলতে দেখা গিয়েছে আর এই পুরভোটে তা আবার প্রমাণ হয়ে গেল যে অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় এই রাজ্যে পুলিশ-প্রশাসন আদৌ কতটা সক্রিয়।

RELATED Articles