করোনার সংক্রমন বেড়েই চলেছে আমাদের দেশে। এই অবস্থাতেও মানুষের মধ্যে সচেতনতা কাজ করছে না। করোনাকে প্রতিরোধ করতে যে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার তাকে পরোয়া না করেই মানুষ রাস্তায় নেমে পড়েছে। তাই লকডাউন ভাঙার এক অভিনব শাস্তি বার করলেন রাজস্থানের ঝুনঝুনুর জেলা প্রশাসন। তারা নির্দেশ দিয়েছেন কেউ বিনা কারণে রাস্তায় বেরোলে তাঁকে এবার থেকে সেবা করতে হবে করোনা আক্রান্ত মানুষদের।
নাওয়ালগড়ের এসডিএম মুরারিলাল শর্মা নির্দেশ দিয়েছেন, উপযুক্ত কারণ ছাড়া যদি কেউ লকডাউনের সময় রাস্তায় কাউকে ঘোরেন তাহলে তাকে ক্যামেরাবন্দি করা হবে এবং সেই ছবি পাঠানো হবে জেলা প্রশাসনের কাছে। ছবি দেখে তাদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করবে পুলিশ। সাধারণ নাগরিক থেকে কর্তব্যরত পুলিশকর্মী, স্বাস্থ্যকর্মী, ছবি পাঠিয়ে অভিযোগ জানালেই তা দেখা হয়ে গুরুত্ব সহকারে, জানিয়েছেন মুরারীলাল।
সংবাদ মাধ্যমকে মুরারীলাল বলেন, ‘এবার থেকে লক ডাউনের সময় কাউকে বিনা কারণে রাস্তায় বেরোতে দেখলে কাউকে গ্রেফতার করা হবে না, লাঠিচার্জও হবে না এমনকি জরিমানাও নেওয়া হবে না। তাদের শুধু একটিই শাস্তি দেওয়া হবে। তাদের করতে হবে স্যানিটাইজেশনের কাজ অথবা করোনা আক্রান্ত রোগীদের দেখাশোনার কাজ। আর এই দেখাশোনার কাজ করতে তাদের পাঠানো হবে হাসপাতালের কোয়ারেন্টাইন বিভাগেও।’
জেটিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও সিংহানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীদের রাখার জন্য যে অস্থায়ী কোয়ারান্টাইন বিভাগ তৈরি করা হয়েছে, আইনভঙ্গকারীদের পাঠানো হবে সেখানেই।
প্রশাসন সূত্রে খবর, রাজস্থানের জেলা প্রশাসনের এই নির্দেশ কিন্তু মোটেও হালকা নয়। সিংহানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ারেন্টাইন বিভাগে এমনিতে রোগীদের দেখাশোনা করার জন্য লোকের দরকার। আর যারা বাড়িতে কোনো কাজ না পেয়ে অকারণ রাস্তায় ঘোরেন তাদেরও একটা কাজ জুটে যাবে। তাই এই নিয়ম চালু হলে সুবিধা হবে দুদিকেই। এই সিদ্ধান্তের পর মানুষের আদৌ হুঁশ ফেরে কিনা সেটাই দেখার অপেক্ষা। নাকি এক দুজনকে শাস্তি না দিলে তারা এই নির্দেশ মানবেন না।






