ফের পুনরাবৃত্তি ঘটবে কী ৫ বছর আগের এক্সিট পোল বিভ্রাটের, নাকি নতুন ইতিহাসের সাক্ষী থাকবে বিহার?

২০১৫ সালে বিহার বিধানসভা নির্বাচনের সময় এক্সিট পোল নিয়ে যে বিভ্রাটের সৃষ্টি হয়েছিল, তা এখনও সকলের মনে আশঙ্কার কারণ। সেই ঘটনাই কী ফের ঘটবে, এই নিয়ে সংকটে রয়েছে বিহারের বিভিন্ন দল। সেই বছর বিজেপি জেডিইউ ত্যাগ করে অন্য পার্টির সঙ্গে নির্বাচন লড়েছিল। অন্যদিকে। নীতিশ আরজেডি-এর সঙ্গে জোট বেঁধেছিল। এক্সিট পোলের হিসেব অনুযায়ী জানা গিয়েছিল যে সে বছর বিহারে বিজেপি ক্ষমতায় আসতে চলেছে কিন্তু জনতার রায় কিছু অন্যই ছিল। বিজেপিকে হারিয়ে জেডিইউ, আরজেডি ও কংগ্রেসের মহাজোট ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।

২০০৫ সালে জেডিইউ নেতা নীতিশ কুমার সুশাসন ও জঙ্গলরাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ক্ষমতায় আসেন। এরপরের নির্বাচন অর্থাৎ ২০১০ সালের বিধানসভা ভোটেও জনতা তাঁর উপরেই আস্থা রাখে। কিন্তু ধীরে ধীরে নীতিশের সঙ্গে বিজেপির মনোমালিন্য সামনে আসতে থাকে ও জেডিইউ লালু যাদবের পার্টি আরজেডি-এর সঙ্গে জোট বন্ধন করে।

গত বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এক্সিট পোল ভোটের ফলাফল হিসেবে দাবী করেছিল যে এনডিএ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চলেছে। সেই মতো পার্টি অফিসে নাকি লাড্ডু দিয়ে জয়ের সেলিব্রেশনও করা হয়। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল দেখে চক্ষু ছানাবড়া এনডিএর। তাদের হারিয়ে নীতিশের মহাজোট ফের একবার ক্ষমতায় আসে।

২০১৫ সালের মহাজোটের সঙ্গে মিলে জয়লাভের পর নীতিশ কুমার হয়েছিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ও লালু প্রসাদের ছেলে তেজস্বী কুমার হয়েছিলেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু ২০১৭ সালে এই মহাজোট ভেঙে বেরিয়ে আসে নীতিশ কুমার ও বিজেপির সঙ্গে মিলে সরকার গঠন করে এনডিএ জোট হিসেবেই এই বছর বিহার বিধানসভা নির্বাচনে লড়েছে।

এদিকে, তেজস্বীর জয় নিয়ে বেশ খুশ মেজাজে আছে আরজেডি জোট। মনে করা হচ্ছে যে ভোটের ফলাফল তেজস্বীর পক্ষেই হতে চলেছে। কিন্তু ঘর পোড়া গরু তো, তাই ২০১৫ সালের নির্বাচনের ফলাফলের কথা মাথায় রেখে জোটের সকলেই এখন চুপচাপ। জানা গিয়েছে যে, তেজস্বী এখনই কাউকে কোনও সেলিব্রেশন করতে বারণ করে দিয়েছেন। শেষ ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত বিহারের আবহাওয়া বেশ গরম। এখন এই নির্বাচনের ফলাফল কী হবে বা আদৌ গদি উল্টে যায় কী না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে বিহার তথা রাজধানী।

RELATED Articles