শুরু হল এ বছরের বাজেট পেশ, ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে দেশকে কী মূল স্রোতে ফেরাতে পারবেন নির্মলা সীতারমন?

আজ বেলা ১১টা থেকেই শুরু হয়েছে ২০২১ সালের বাজেট পেশ অধিবেশন। এ বছরের বাজেটের দিকে তাকিয়ে গোটা দেশের জনগণ। অন্যান্য বছরের তুলনায় এই বছরের বাজেটের গুরুত্ব অনেকটাই বেশি। একেই করোনা অতিমারির কারণে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো বেশ বিধ্বস্ত। পকেটে টান মধ্যবিত্ত থেকে নিম্ন-মধ্যবিত্তদের। গত বছর কাজ হারিয়েছেন বহু মানুষ। মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে পড়েছে। এর জেরে এই বছরের বাজেটের দিকে নজর সকলেরই। কেন্দ্রীয়  অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন দাবী করেছেন যে বাজেটে আমূল সংস্কার আনা হবে। কিন্তু এদিকে দেশের রাজকোষে বেশ টান। এই অবস্থায় কীভাবে ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিক ফের চাঙ্গা করে দেশকে মূল স্রোতে ফেরান নির্মলা, এখন সেটার অপেক্ষাই চলছে।

প্রথমেই নির্মলার চ্যালেঞ্জ স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় বরাদ্দ বাড়ানো। করোনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার অবস্থা ঠিক কীরকম। সাধারণ মানুষের মারণ ব্যাধির জন্য চিকিৎসা করানোর বিপুল ব্যয়ভার বহন করার ক্ষমতা নেই। এই অবস্থায় সরকারকেই স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় বরাদ্দ বাড়াতে হবে। তা নাহলে আগামী দিনে ফের যদি এই ধরণের কোনও বিপদ আসে, তাহলে তার মোকাবিলা করার ক্ষমতা দেশের থাকবে না। ইতিমধ্যেই ৬৪ হাজার কোটি টাকা বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু এর বেশীরভাগ অংশই খরচ হয়েছে করোনার টিকাকরণের কাজে। এ বছরও টিকাকরণের জন্য আলাদা অংশ রেখে দিতে হবে।

গত বছর স্বাস্থ্যখাত ছাড়া যে বিষয়টি সবচেয়ে বড়রকম মার খেয়েছে, তা হল শিক্ষাব্যবস্থা। করোনা অতিমারির কারণে প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ স্কুল-কলেজ। এর জেরে  রীতিমতো ধস নেমেছে শিক্ষাব্যবস্থায়। শিক্ষার ক্ষেত্রে বড় রকমের কোনও সংস্কার না আনলে ছাত্রছাত্রীদের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। শিক্ষাকে কর্মমুখী করলে তবেই কর্মসংস্থান ক্ষেত্রে লগ্নি বাড়বে।

এছাড়াও, গত বছর থেকেই যে বিষয়টি মাথাচাড়া দিয়েছে, তা হল পেট্রোল-ডিজেলের দাম। তা ক্রমশই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। লিটার প্রতি পেট্রোলের দাম এসে দাঁড়িয়েছে ৮৭ টাকায়, এর মধ্যে কর বাবদই খরা ৫২ টাকা। সরকারকে ভেঙে পড়া রাজকোষকে সামাল দিতে জনগণের উপর চাপ প্রয়োগ করতে হচ্ছে।

এই করোনা পরিস্থিতির জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাঝারি ও ছোটো শিল্পগুলি। ছোটো পুঁজির ব্যবসায়ী ও অসংগঠিত শ্রমিকেরা কাজ হারিয়েছেন। ফলে মানুষকে কাজের স্রোতে ফেরাতে না পারলে দেশের একটা বড় অংশের মানুষ আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে।

এছাড়াও, স্বর্ণশিল্পে আরও সংস্কার আনতে হবে। কর ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও আরও বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন। তা নাহলে সাধারণ মানুষকেই যাঁতাকলে পিষতে হবে। আয় বৈষম্যের দিকেও চিন্তা করা প্রয়োজন।

করোনা পরিস্থিতি সামলে এই এতগুলো সমস্যা সমাধানে নির্মলা সীতারমন কোনও যাদু দেখাতে পারবেন কী না, এখন তাই-ই দেখার।

RELATED Articles