বর্তমান সময়ে প্রেমের সংজ্ঞা বদলে গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অচেনা মানুষদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে মুহূর্তে। তবে সেই সম্পর্ক যে ভয়ঙ্কর প্রতারণায় পরিণত হতে পারে, তা হয়তো অনেকেই কল্পনা করেন না। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশে ঘটে যাওয়া এক ঘটনাই ফের প্রমাণ করে দিল, অনলাইনে গড়ে ওঠা প্রেম যে কেবল মন ভাঙে না, কখনও কখনও প্রাণও কাড়ে।
জানা গিয়েছে, মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরের বাসিন্দা, ৪৫ বছরের ইন্দ্রকুমার তিওয়ারির সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয় হয়েছিল এক তরুণীর। অনলাইনে নিজের নাম দিয়েছিলেন ‘খুশি তিওয়ারি’। পরবর্তী সময়ে জানা যায়, তাঁর আসল নাম সাহিবা বানো। একটি রিল দেখে সাহিবার নজরে পড়েন ইন্দ্রকুমার, যেখানে তিনি জানান, তিনি অবিবাহিত এবং তাঁর নামেই ১৮ বিঘা জমি রয়েছে। সেই থেকেই শুরু হয় ‘প্রেমের খেলা’। প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন সাহিবা। তৈরি করেন ভুয়ো আধার কার্ডও।
বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ভরসা করে কুশিনগরে চলে আসেন ইন্দ্রকুমার। সেখানেই সাহিবা ও তাঁর দুই সঙ্গীর সঙ্গে দেখা হয় তাঁর। পরিকল্পনামাফিক হয় একটি ‘ভুয়ো বিয়ে’। সেই বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই, দুই সঙ্গীর সাহায্যে ইন্দ্রকুমারকে হত্যা করেন সাহিবা। পরে তাঁর দেহ ফেলে দেওয়া হয় কুশিনগরের একটি নর্দমায়। ৬ জুন সেই দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে মৃতের পরিচয় না মিললেও, পরে জব্বলপুরের নিখোঁজ ডায়েরির সূত্র ধরে পরিচয় নিশ্চিত হয়।
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। সাহিবার উদ্দেশ্য ছিল, নিজেকে ইন্দ্রকুমারের বৈধ স্ত্রী বলে দাবি করে তাঁর সম্পত্তির দখল নেওয়া। ইতিমধ্যেই পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে সাহিবা ও তাঁর দুই সঙ্গী। জানা যাচ্ছে, এর আগেও এই ধরনের প্রতারণা করেছেন তারা। সাহিবার এক সঙ্গী কুশল নাকি পূর্বেও এইভাবে ভুয়ো বিয়ের মাধ্যমে সম্পত্তি আত্মসাৎ করার চেষ্টা করেছিলেন।
আরও পড়ুনঃ Bangladesh: দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে ধর্ষ*ণ, কুমিল্লার মুরাদনগরে চাঞ্চল্য, ভিডিও ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল বাংলাদেশজুড়ে!
এই ঘটনার পর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত যা জানা গিয়েছে, তাতে এটিই সাহিবাদের প্রথম অপরাধ নয় বলেই মনে করছে প্রশাসন। আরও কতজন একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তার খোঁজ চালানো হচ্ছে। অনলাইনে সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলেই পরামর্শ দিচ্ছে পুলিশ।





