একটা সময় যাকে তিনি ক্লাসরুমে শিক্ষা দিয়েছিলেন, আজ তাকেই তিনি রক্ষা করতে চাইছেন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে। কসবা কলেজের ধর্ষণকাণ্ডে নির্যাতিতার আইনজীবী যে একজন পেশাদার আইনজীবী হওয়ার পাশাপাশি তাঁর নির্যাতিতার শিক্ষকও, সে তথ্য অনেকেরই অজানা। আর সেই সম্পর্ক থেকেই জন্ম নিয়েছে এক অসাধারণ দায়বোধ, যা তাঁকে দাঁড় করিয়েছে এক ভয়হীন সংগ্রামে।
ভিকটিমের আইনজীবী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “আমার ছাত্রী ধর্ষিতা হয়েছে। আমার কাছে এটা একটা মামলার বিষয় নয়, এটা ব্যক্তিগতভাবে গভীর গুরুত্বপূর্ণ।” তাঁর চোখে এখন আইনের বই নয়, ভেঙে যাওয়া একটি ছাত্রীর ভবিষ্যৎ। তাঁর এই বক্তব্যে ফুটে ওঠে শিক্ষকতা পেশার মানবিক দিক এবং একজন শিক্ষকের অসীম দায়িত্ববোধ।
তিনি বলেছেন, “যতক্ষণ না পর্যন্ত তিনি (ভিকটিম) বিচার পাচ্ছেন, ততক্ষণ আমি থামব না। তাতে যদি আমি মারাও যাই, কিছু যায় আসে না।” এই কথাগুলোর মধ্যে দিয়ে উঠে আসে এক ভয়হীন মনোভাব, এক প্রতিবাদী চেতনা। তাঁর মতে, সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকে ভয় পেলে সমাজ বদলাবে না, বরং অপরাধীরা আরও সাহস পাবে।
তিনি নিজেই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “খুব বেশি হলে কি হবে? আমাকে খুন করবে। আমার বাবা-মাকে তুলে নিয়ে যাবে, তাদের মেরে ফেলবে। আমার ক্যারিয়ার নষ্ট করে দেবে, আমার প্রফেশন শেষ করে দেবে।” কিন্তু এরপরই তিনি যোগ করেন, “এই সবকিছু থেকেও বড় হচ্ছে আমার বাচ্চাটার জাস্টিস পাওয়া। আমি শুধু সেটাই চাই।” একথা থেকেই বোঝা যায়, তিনি জানেন লড়াইটা সহজ নয়, কিন্তু তিনি তবুও পিছপা নন।
আরও পড়ুনঃ Online Love Trap: প্রেমের ফাঁদ, ভুয়ো বিয়ে, তারপরই নর্দমায় স্বামীর দেহ! সম্পত্তির লোভে নৃশংস খু*নে গ্রেপ্তার তরুণী!
তাঁর কথাতেই স্পষ্ট, পরিস্থিতি সহজ নয়। যেভাবে তিনি বারবার নিজের প্রাণ, বাবা-মায়ের নিরাপত্তা, পেশাগত জীবন—সবকিছু হারানোর আশঙ্কার কথা বলছেন, তাতে একটা অনিশ্চয়তার ছায়া স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যদিও তিনি সরাসরি কোনও হুমকির কথা বলেননি, তবে তাঁর কথাতেই যেন লুকিয়ে রয়েছে এক পরোক্ষ বার্তা। তবুও, তাঁর চোখে এখন একটাই লক্ষ্য—ছাত্রীটির জন্য ন্যায়বিচার। আর সেই লক্ষ্য থেকেই, তিনি সমস্ত ঝুঁকি সত্ত্বেও থামছেন না।





