বাংলাদেশে নারী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মেঘ ঘনিয়ে উঠেছে আরও একবার। বিশেষত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারীরা যখন নির্যাতনের শিকার হন, তখন প্রশ্ন ওঠে আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক নৈতিকতা নিয়ে। সম্প্রতি কুমিল্লার মুরাদনগর থেকে উঠে এসেছে এমনই এক নৃশংস ও মর্মান্তিক ঘটনার খবর, যা শুধুমাত্র এক নারীর মানসিক ও শারীরিক ক্ষত নয়, বরং গোটা সমাজে দগদগে একটি ক্ষতচিহ্ন হয়ে রয়ে গেল।
জানা গিয়েছে, গত ২৬ জুন বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মুরাদনগরের বাহেরচর পাচকিত্তা গ্রামে ঘটে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। একটি হিন্দু পরিবারের মেয়ের ওপর জোরপূর্বক নির্যাতন চালানো হয়, যখন তার বাবা-মা বাড়ির বাইরে ছিলেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি ফজর আলী, স্থানীয় শহীদ মিয়ার ছেলে। সে ওই নারীর বাড়ির দরজা ভাঙার চেষ্টা করে এবং এক পর্যায়ে কৌশলে ঘরের ভিতরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ।
ঘটনার পর গ্রামজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে আশেপাশের মানুষ ছুটে এলে তারা অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং মারধরের সময় একটি ভিডিও রেকর্ড করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটপাড়ায় শুরু হয় তীব্র ক্ষোভ। বহু মানুষ দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। ভিডিওর বৈধতা ও শালীনতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
জাহিদুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী নারী নিজেই থানায় এসে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত ফজর আলীর বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই ভুক্তভোগীর মেডিক্যাল পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক এবং তাকে ধরতে পুলিশের দুটি টিম তল্লাশি চালাচ্ছে বলে জানান ওসি।
আরও পড়ুনঃ Extramarital relationship : ‘স্বামীর সময় নেই, ওঁর আছে’— মোবাইল প্রেমে মজে ঘর ছাড়ছেন শত শত গৃহবধূ!
ভুক্তভোগী নারীর বয়ান অনুযায়ী, ফজর আলীর সঙ্গে পারিবারিক পরিচয় ছিল এবং অর্থনৈতিক লেনদেনের সূত্র ধরেই তার বাড়িতে যাতায়াত ছিল অভিযুক্তের। সেই চেনা মুখই এক সময় আস্থার সুযোগ নিয়ে তার জীবনে চরম বিপর্যয় নামিয়ে আনে। বর্তমানে ওই নারী দুই সন্তান নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, দোষী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের হাত থেকে রক্ষা পাবে না।






