Pakistan : প্রেস ব্রিফিংয়ে মহিলা সাংবাদিককে দেখে ‘ইশারা–হাসি’! পাক সেনার মুখপাত্রকে নিয়ে তীব্র ক্ষোভ—ভিডিও ভাইরাল হতেই পাকিস্তানে ‘গণতন্ত্র অপমানের’ তীব্র ঝড়!

পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতা যেন দিন দিন নতুন রূপ নিচ্ছে। কখনও আদালতের সিদ্ধান্ত, কখনও রাজনৈতিক নেতাদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ—সব মিলিয়ে দেশজুড়ে ইতিমধ্যেই উত্তেজনার আবহ। তার মাঝেই ফের এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক, প্রশ্ন উঠছে সেনাবাহিনীর আচরণ, সাংবাদিকদের স্বাধীনতা এবং দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে।

ঘটনাটি ঘটে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন পাক সেনার জনসংযোগ বিভাগের প্রধান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী। শুরু থেকেই কঠিন প্রশ্ন উঠছিল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে নিয়ে। বিভিন্ন সময় তাঁকে ‘জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি’ বা ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ বলা হয় কেন—এই নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চান মহিলা সাংবাদিক আবসা। প্রথমে চৌধুরী কিছুটা কটাক্ষ মিশিয়ে উত্তর দেন। এরপরই ঘটে সেই বিতর্কিত মুহূর্ত—মহিলা সাংবাদিক প্রশ্ন করতেই তাঁর দিকে তাকিয়ে মুখভঙ্গি, হাসি, আর ‘ইশারা’। আর এখান থেকেই ঝড় ওঠে অনলাইনে।

অনেকে ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন। সাংবাদিকদের অনেকেই মনে করেন, একজন উচ্চপদস্থ সামরিক আধিকারিকের এই আচরণ “অপেশাদার”, “অসম্মানজনক” এবং “ক্ষমতার অপব্যবহারের” প্রতিচ্ছবি। সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে—কেউ লিখেছেন, পাকিস্তানে গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়েছে আগেই, এই ঘটনা তার আরেকটি উদাহরণ। কেউ আবার প্রশ্ন তুলেছেন, সাংবাদিক স্বাধীনতা কি এখন সামরিক ক্ষমতার নিচে চাপা পড়ছে?

প্রতিক্রিয়ায় চৌধুরী আরও আগ্রাসী অবস্থান নেন বলেই অভিযোগ। নাম না করে ফের ইমরান খানকে নিশানা করেন তিনি। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে ‘নার্সিসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ইমরান নাকি মনে করেন, তিনি না থাকলে দেশে আর কেউ থাকবে না। এমনকি জেলে ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে যাঁরা যান, তাঁদের মাধ্যমেও নাকি রাজনৈতিক ‘চক্রান্ত’ করা হচ্ছে—এমন অভিযোগও তোলেন তিনি। ৯ মে, ২০২৩-এর ঘটনায় ইমরানকে ‘পরিকল্পনাকারী’ বলেও নতুন করে তোপ দাগেন চৌধুরী।

আরও পড়ুনঃ Amit Shah on SIR: ‘দেশবাসী ভোট দেয় না, বিদেশিদের ভোট হারানোর ভয়ে SIR-র বিরোধিতা’— দাবি অমিত শাহের! মমতা-রাহুলকে তোপ শাহের!

এই সব কিছুর মাঝে আবারও উঠে আসছে পাকিস্তানের ক্ষমতাসূত্রের প্রসঙ্গ। কিছুদিন আগে ইমরান খান সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে ‘মানসিকভাবে অস্থির ব্যক্তি’ বলেছিলেন, সেই মন্তব্য নিয়েও দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। এবার সামরিক মুখপাত্রের ‘ইশারা কাণ্ড’ নতুন করে সেই আগুনে ঘি ঢেলেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, গণতন্ত্রের সংকট, এবং সেনাবাহিনীর ভূমিকা—সব প্রশ্ন আবারও সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। আর ততক্ষণে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে সেই ভিডিও, যা পাকিস্তানের বিতর্কিত বাস্তবতাকে আরও একবার সামনে এনে দিয়েছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর